২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৯

ভোরে ঘুম থেকে উঠলে মিলবে যে ৬ উপকার

সংগৃহীত  © সংগৃহীত

সকালে ঘুম থেকে উঠে দিন শুরু করার অভ্যাস শুধু সময় বাঁচাতেই নয়, প্রতিদিনের জীবনকে আরও গোছানো করতেও সাহায্য করে। দিনের কাজের পরিকল্পনা করা, সকালের ব্যস্ততা সামলানো কিংবা নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা সবই সহজ হয় আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকলে। তবে এর সুফল পেতে হলে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও জরুরি। নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস কীভাবে কাজে আসতে পারে জেনে নেওয়া যাক-

১. কাজের জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়: সকালে কিছুটা আগে উঠলে দিনের কাজ পরিকল্পনা করার বাড়তি সময় পাওয়া যায়। পড়াশোনা, ব্যায়াম কিংবা অফিসের প্রস্তুতি তাড়াহুড়া ছাড়াই নেওয়া সম্ভব। দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে থেকে ঠিক করে রাখলে সময়ের সঠিক ব্যবহারও সহজ হয়।

২. সকালের চাপ কমে: দেরিতে ঘুম থেকে উঠে অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে হলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে গোসল, নাশতা ও কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি ধীরেসুস্থে নেওয়া যায়। এতে দিনের শুরুটা তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।

৩. ঘুমের নিয়মিত সময়সূচি বজায় থাকে: প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে সকালে ওঠার জন্য রাতে ঘুমের সময় কমানো উচিত নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

৪. মনোযোগ ও কর্মদক্ষতায় সহায়তা করে: পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও শেখার সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সকালে নিরিবিলি পরিবেশে পড়াশোনা, লেখালেখি কিংবা দিনের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তবে সবাই সকালে সমান মনোযোগী থাকেন না। নিজের কর্মক্ষমতার সময় বুঝে রুটিন তৈরি করাই ভালো।

৫. মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে: ২০১৯ সালে স্লিপ মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, দেরিতে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস রয়েছে এমন কিছু মানুষের ঘুমের সময় এগিয়ে আনার পর তাদের মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার উপসর্গ কমেছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাইকে ভোরে উঠতে হবে। নিয়মিত ঘুম এবং নিজের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

৬. স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়: সকালে কিছুটা সময় হাতে থাকলে হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম, বই পড়া কিংবা দিনের পরিকল্পনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন না এনে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা বা দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকা তৈরির মতো ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করতে পারেন।

সকালে ওঠার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে: সকালে আগে উঠতে চাইলে ধীরে ধীরে ঘুম থেকে ওঠার সময় এগিয়ে আনুন। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান, ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার কমান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।