মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ছোট্ট অভ্যাসেই ভালো হতে পারে মুড
সারাদিনের কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা একটানা বসে থাকার ক্লান্তিতে মন খারাপ হয়ে যেতেই পারে। এমন সময়ে মন ভালো করতে খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো কয়েক মুহূর্তের হাসি, একটু শরীরচর্চা কিংবা গভীর শ্বাস নেওয়ার মতো ছোট অভ্যাসও মনকে স্বস্তি দেয়।
মানসিক সুস্থতা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন কিছু ছোট অনুশীলনের উপকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। এগুলোকে বলা হয় ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ বা স্বল্পমেয়াদি অনুশীলন। অর্থাৎ, খুব অল্প সময়ে করা যায় এমন কিছু সহজ অভ্যাস, যা প্রতিদিনের জীবনে দ্রুত মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
ইচ্ছা করে হাসলেও মিলতে পারে আনন্দ
হাসির জন্য সব সময় মজার কোনো ঘটনা বা কোনো কৌতুকের প্রয়োজন নেই, ইচ্ছা করেও হাসা যায়। এ ধারণা থেকেই এসেছে ‘লাফটার ইয়োগা’ বা হাসির যোগব্যায়াম। এতে প্রথমে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিতে হয়, এরপর ইচ্ছা করেই হাসতে শুরু করতে হয়। শুরুতে এই হাসি কিছুটা কৃত্রিম মনে হলেও কিছুক্ষণ পর তা স্বতঃস্ফূর্ত হাসিতে রূপ নেয়।
হাসির এমন অনুশীলনের উপকারিতা নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইচ্ছাকৃত হাসির অনুশীলন বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে গবেষণার ফল আশাব্যাঞ্জক হলেও এ বিষয়ে আরও উন্নত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুশীলনটি করতে প্রথমে তিনবার গভীর শ্বাস নিন। এরপর মুখ খুলে হাসির ভঙ্গি করুন বা শব্দ করে হাসতে শুরু করুন। ধীরে ধীরে হাসির মাত্রা বাড়ান। চাইলে বন্ধু বা পরিবারের কারও সঙ্গে এটি একসঙ্গে করতে পারেন।
একটানা বসে থাকলে নিন ছোট বিরতি
দীর্ঘ সময় অফিসে কম্পিউটারের সামনে বা মোবাইলের সামনে বসে কাজ করলে শরীরে জড়তা, ঘাড় ও কাঁধে অস্বস্তি এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এ সময় অল্প কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে শরীর প্রসারিত (স্ট্রেচিং) করলে স্বস্তি মিলতে পারে।
২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি কর্মীদের ক্লান্তি কমাতে এবং নতুন উদ্যোমে কাজ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিরতির সময় চেয়ারে বসেই দুই কাঁধ ধীরে পেছনের দিকে ঘোরাতে পারেন।
আরও খবর: ব্যস্ত নগরজীবনে কিছুটা সময় প্রকৃতির মাঝে, কমতে পারে মানসিক চাপ
দুই হাত মাথার ওপর তুলে শরীর সামান্য প্রসারিত করুন। চাইলে পিঠের পেছনে দুই হাতের আঙুল জড়িয়ে বুক প্রসারিত করতে পারেন। এ সময় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন কোনো অবস্থাতেই শরীরে অতিরিক্ত জোর দেবেন না।
কাজের মধ্যেই রাখুন সচেতন বিরতি
মানসিক প্রশান্তির জন্য আলাদা করে দীর্ঘ সময় বের করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে প্রতিদিনের সাধারণ কাজের মধ্যেই কিছুটা সময় নিজের দিকে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব। হাঁটার সময় আশপাশের পরিবেশ খেয়াল করা, চা পান করার সময় এর স্বাদ ও গন্ধ অনুভব করা কিংবা কাজের ফাঁকে কয়েকবার ধীরে শ্বাস নেওয়ার মতো ছোট অভ্যাস মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
এ ধরনের সচেতনতার অনুশীলন মানসিক চাপ সামলানোর একটি কার্যকর উপায়। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও কাছে যে পদ্ধতি স্বস্তিদায়ক, অন্য কারও কাছে সেটি ততটা কার্যকর নাও হতে পারে।
তাই নিজের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি অভ্যাস দিয়ে শুরু করতে পারেন। শুরুতে ৩০ সেকেন্ড বা এক মিনিট সময় দিলেই যথেষ্ট। ধীরে ধীরে অভ্যাসটি আপনার জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।
খেয়াল রাখবেন, ছোট এসব অনুশীলন মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা জটিল মানসিক সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প নয়। আপনার জীবনে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরণের সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। (সূত্র: বিবিসি)