০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২

ব্যস্ত নগরজীবনে কিছুটা সময় প্রকৃতির মাঝে, কমতে পারে মানসিক চাপ

গ্রিন এক্সারসাইজ  © সংগৃহীত

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, ট্রাফিক জামের ভোগান্তি, স্ক্রিনের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকা আর নানা মানসিক চাপ দিনশেষে আমাদের মন ও মস্তিষ্ক দুটোকেই ক্লান্ত করে তোলে। চা বা কফির কাপ কিংবা এসির ঠান্ডা ঘরেও অনেক সময় সেই ক্লান্তি দূর হয় না। অথচ এই ক্লান্তি কাটাতে খুব জটিল বা ব্যয়বহুল কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। দিনের কোনো একভাগে, বিশেষ করে বিকেলে বা সন্ধ্যায় একটু নিরিবিলি পরিবেশ, গাছের ছায়া বা খোলা আকাশের নিচে কিছুটা সময় কাটানোই হতে পারে শরীর ও মনের সবচেয়ে কার্যকর দাওয়াই।

​সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য। চিকিৎসাবিজ্ঞান যাকে বলছে 'ইকোথেরাপি' বা ‘গ্রিন এক্সারসাইজ’।

​সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। গবেষকরা বলছেন, বিকেলে পার্কের গাছের ছায়ায় বসা, লেকের পাশে কিছুক্ষণ হাঁটা কিংবা একটু খোলা বাতাসের সংস্পর্শে আসার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে মানবদেহে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এতে রক্তে মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোন 'কর্টিসল'-এর মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে এবং মন স্বাভাবিক হয়ে আসে।

​যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এক দীর্ঘমেয়াদি জরিপে দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত দুই ঘণ্টা বা প্রতিদিন গড়ে ২০ মিনিট সবুজ প্রকৃতির মাঝে কাটান, তাদের মানসিক বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে জাপানে বহু বছর ধরে প্রচলিত 'ফরেস্ট বাথিং' বা প্রকৃতির মাঝে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার নিয়মটিকে এখন চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনের মতো ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।

​মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, চার দেয়ালের কৃত্রিম আলো এবং মোবাইল-কম্পিউটারের ডিসপ্লে আমাদের মস্তিষ্ককে সারাক্ষণ এক ধরনের তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রাখে, যাকে বলা হয় 'অ্যাটেনশন ফ্যাটিগ' বা মনোযোগের ক্লান্তি। বিকেলের নরম আলো এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো 'হ্যাপি হরমোন' ক্ষরণ বাড়ায়। ফলে দ্রুত মন ফুরফুরে হয়ে ওঠে এবং রাতের ঘুমও গভীর হয়।

​তবে এ জন্য বিশাল কোনো বনে বা দূরের রিসোর্টে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নগর জীবনে বাসার কাছের ছোট কোনো পার্ক, খেলার মাঠ, কিংবা প্রাকৃতিক কোনো নিরিবিলি পরিবেশে এমনকি নিজের ছাদবাগানে সময় কাটানোই যথেষ্ট। ​তবে সবুজের কাছাকাছি থাকার এই সময়টুকুতে চোখ রাখতে হবে চারপাশের প্রকৃতিতে, মোবাইল স্ক্রিনে নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোলাহল ছেড়ে বিকেলের এই মনোরম পরিবেশ আর পাখির ডাক শোনার অভ্যাসই হতে পারে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।