২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৪

শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বুঝবেন যেসব লক্ষণে

ভিটামিন ডি  © সংগৃহীত

আমাদের শরীরের হাড় ও পেশির সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা শক্তিশালী হাড় ও দাঁত গঠনে প্রয়োজন। শরীরে দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে শিশুদের রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়ার মতো হাড়ের সমস্যা হতে পারে। 

তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি সবসময় স্পষ্ট লক্ষণ তৈরি করে না। কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, শরীর বা হাড়ে ব্যথা এবং পেশির দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

হাড়ে ব্যথা বা দুর্বল হওয়া
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো হাড়ে ব্যথা। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পিঠ, কোমর, পা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। গুরুতর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। 

পেশির দুর্বলতা
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে পেশিতে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো কিংবা স্বাভাবিকভাবে হাঁটার মতো দৈনন্দিন কাজেও আগের তুলনায় বেশি কষ্ট হতে পারে। 

অতিরিক্ত ক্লান্তি
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও শরীর খারাপ লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে ক্লান্তির কারণ অনেক ধরনের হতে পারে। তাই শুধু ক্লান্তি থাকলেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হয়েছে এমনটি নয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
শিশুদের জন্য ভিটামিন ডি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর ঘাটতি হলে রিকেটস হতে পারে। এতে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায় এবং হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। পা বাঁকা হয়ে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা, হাঁটতে অনীহা বা দেরিতে হাঁটার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

কারা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির ঝুঁকিতে?
যারা নিয়মিত সূর্যের আলোতে থাকেন না, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি কম তৈরি হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি, শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখেন এমন মানুষ এবং গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রেও সূর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরিতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া স্থূলতা এবং শরীরে চর্বি শোষণে সমস্যা তৈরি করে এমন কিছু রোগের ক্ষেত্রেও ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

শুধু উপসর্গ দেখে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। সাধারণত রক্তে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি [২৫(ওএইচ)ডি]-এর মাত্রা পরীক্ষা করে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অবস্থা নির্ণয় করা হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে হাড়ে ব্যথা, পেশির দুর্বলতা বা এ ধরনের অন্যান্য উপসর্গ থাকলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাবার ও সূর্যের আলো থেকে মিলতে পারে ভিটামিন ডি
শরীর সূর্যের আলোতে থাকা অতিবেগুনি রশ্মির (ইউভিবি) সংস্পর্শে নিজে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। খাবারের মধ্যেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ কিছু খাবার এর উৎস। তবে শুধু বেশি সময় রোদে থাকলেই সবার ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণ হবে এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ত্বকের ধরন, বয়স, পোশাক, সূর্যের আলো পাওয়ার পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির পরিমাণ নির্ভর করে।

পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নয়
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে। তবে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করাও ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণের ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে বমি, দুর্বলতা, অতিরিক্ত পিপাসা ও ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো সমস্যা হতে পারে; গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির ক্ষতিও হতে পারে। 

শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে অনেক সময় লক্ষণ খুবই সাধারণ ধরনের হয়। ক্লান্তি, শরীর ব্যথা বা দুর্বলতার পেছনে ঘুমের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। তাই এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

বরং দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই নিরাপদ। 

সূত্র: এনআইএইচ