১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫

ডেঙ্গু হলে কী খাবেন, আর কী খাবেন না

ডেঙ্গু জ্বর   © সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গু হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের পাশাপাশি সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য বাড়ির স্বাভাবিক খাবারই যথেষ্ট হলেও খাবারের তালিকায় প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রাখা উপকারী। বিশেষ করে পানি, স্যুপ, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল খাবারের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রও (সিডিসি) ডেঙ্গুতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ডেঙ্গু জ্বরের খাবার ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য থাকবে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী রাখা। এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, আয়রন, ভিটামিন ডি, জিংক ও ফসফরাসযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী। ডিম, সামুদ্রিক মাছ, ব্রকলি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম, পালংশাক, বাদাম, বিট, মটরশুঁটি, কলা, তরমুজ, পেঁপে, লেবু ও মাল্টায় এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলেই অণুচক্রিকার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষ করে পেঁপের জুস অণুচক্রিকা বাড়ায়—এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও বড় পরিসরের গবেষণা এখনো সীমিত।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য চিকেন ভেজিটেবল স্যুপ ভালো খাবার হতে পারে। এতে ব্রকলি, মটরশুঁটি, ক্যাপসিকাম ও বিটের মতো সবজি যোগ করা যায়। স্যুপ শরীরে তরল সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি দিতে পারে।

টক দইও খাওয়া যেতে পারে। এতে তরল ও প্রোবায়োটিক পাওয়া যায়, যা পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

ভাতের মাড়ও তরল খাবার হিসেবে উপকারী। এর সঙ্গে সেদ্ধ সবজি ও সামান্য লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে। এতে শরীরে কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও যোগ হয়।

জাম্বুরা ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের ভালো উৎস। ডেঙ্গুতে পর্যাপ্ত তরল ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু জাম্বুরার জুসের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের তরল ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত।

আনারের জুসেও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। তবে এটিকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বা অণুচক্রিকা বাড়ানোর নির্দিষ্ট উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

কচি ডাবের পানি সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইটের উৎস। তাই ডেঙ্গুতে এটি তরল গ্রহণের একটি উপায় হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ডাবের পানি পান না করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা উচিত। ডেঙ্গুতে পর্যাপ্ত মৌখিক তরল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সিডিসিও।

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ডেঙ্গু হলে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি তরল খাবারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া দরকার।

অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় অতিরিক্ত মসলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এসব খাবার হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বমি, বমি ভাব বা পেটের সমস্যা থাকলে সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গুতে খাবারের পাশাপাশি বিপদের লক্ষণগুলোর দিকেও নজর রাখা জরুরি। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, রক্তবমি বা পায়খানায় রক্ত এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর কমে গেলেই রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।