পানি জমলেই বাড়ে এডিসের বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি, ডেঙ্গু থেকে নিরাপদ থাকতে যা করবেন
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০টি দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে। চলতি বছরেই বিশ্বব্যাপী ১৫ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাবে মশার ঘনত্ব ও ভাইরাসের রূপান্তর আশঙ্কাজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও গত কয়েক বছর ধরেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু।
এ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল উড়ন্ত মশা নিধনই যথেষ্ট নয়, বরং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাড়ির ভেতর ও আশপাশে জমে থাকা সামান্য পরিষ্কার পানিতেও এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই শুধু মশা তাড়ানো বা মারার ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে প্রজনন কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে তা বিনষ্ট করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘সোর্স রিডাকশন’ বা প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এডিস মশা সাধারণত মানুষের বাসস্থানের কাছাকাছি পানি জমে থাকা পাত্রে ডিম পাড়ে।
বাসাবাড়ির ভেতর বা বাইরে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, বালতি, ফুলের টব, পানির ড্রাম, ডিশ বা ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার এবং নির্মাণাধীন ভবনের গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেও এডিস বংশবিস্তার করে।
ডেঙ্গু ঠেকাতে যা করবেন
বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা: বাড়ির উঠান, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের ঝোপঝাড় এবং অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হবে। এমন কোনও খোলা পাত্র রাখা যাবে না, যেখানে বৃষ্টির পানি জমতে পারে।
পানি জমা বন্ধ করা: বালতি, ড্রাম বা টবের নিচে জমে থাকা পানি তিন দিনের বেশি রাখতে দেওয়া যাবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পানির পাত্র সবসময় শক্তভাবে ঢেকে রাখতে হবে এবং নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
আরও খবর: বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে একসঙ্গে প্রাণ হারালেন ৪ জন
পরিত্যক্ত জিনিসপত্র অপসারণ: পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল কিংবা নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলতে হবে অথবা এমন স্থানে রাখতে হবে যাতে পানি না জমে।
ক্ষুদ্র প্রজননস্থল খুঁজে বের করা: এডিস মশা বংশবিস্তারের জন্য বিশাল জলাশয়ের প্রয়োজন হয় না। ফুলের টবের ট্রে, ছাদের কোণা কিংবা বাড়ির ড্রেনে জমে থাকা সামান্য পানিতেও এরা ডিম পাড়তে পারে। তাই নিয়মিত পুরো প্রপার্টি পরিদর্শন করা দরকার।
মশার কামড় থেকে সুরক্ষার উপায়
প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি এডিস মশার কামড় এড়ানোও আবশ্যক। এডিস মশা মূলত দিনের বেলায় (সকাল ও বিকালের দিকে) বেশি সক্রিয় থাকে। দিনে বাইরে বের হলে শরীর ঢাকা পোশাক পরিধান করুন। ত্বকে মশা প্রতিরোধক (মস্কিউটো রিপেলেন্ট) ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঘরের দরজা ও জানালায় মশানিরোধী নেট ব্যবহার করুন। দিনে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমান। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।