০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৮

শুধু বুকে ব্যথা নয়, হার্ট অ্যাটাকের আগে দেখা দিতে পারে যেসব লক্ষণ

হার্ট অ্যাটাক  © টিডিসি সম্পাদিত

হার্ট অ্যাটাকের কথা বললে অনেকেরই প্রথমে মনে আসে তীব্র বুকে ব্যথার কথা। তবে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগের উপসর্গ সবসময় এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব কিংবা ঘুমের সমস্যার মতো তুলনামূলক সাধারণ কিছু উপসর্গও হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত হতে পারে। 

এসব লক্ষণকে অনেক সময় মানসিক চাপ, বয়সজনিত সমস্যা, মেনোপজ কিংবা ব্যস্ত জীবনযাপনের প্রভাব মনে করে এড়িয়ে যান নারীরা।

ন্যাশনাল হার্ট ফেইলিউর রেজিস্ট্রি (এন এইচ এফ আর) এর তথ্য অনুযায়ী, তীব্র হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী। ভারতে নারীদের হৃদ্‌রোগ অনেক সময় শনাক্ত না হওয়ায় এটি মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই নারীদের হার্ট অ্যাটাকের আগাম সতর্কসংকেত সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

সাম্প্রতিক এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগাম সতর্কসংকেত হিসেবে অস্বাভাবিক বা ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ক্লান্তি হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগেও দেখা দিতে পারে। শরীরে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে স্বাভাবিকের তুলনায় শক্তি কমে গিয়ে এমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

হৃদ্‌রোগ নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শনাক্ত হতে দেরি হয়। ফলে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রচলিত বুকে ব্যথার পরিবর্তে তুলনামূলক সূক্ষ্ম উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়
নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিক বা ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বা অস্বস্তি, চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা বাহুতে ব্যথা, মাথা ঘোরা, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা বদহজমের মতো উপসর্গ, ঘুমের সমস্যা।

এসব উপসর্গ সবসময় হার্ট অ্যাটাকের কারণে হবে এমন নয়। তবে একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে কিংবা নতুন ও অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পুরুষ ও নারীর উপসর্গে পার্থক্য
পুরুষদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সময় তীব্র বা চাপধরনের বুকে ব্যথা তুলনামূলক বেশি পরিচিত লক্ষণ। নারীদের ক্ষেত্রে এর পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, পিঠ বা চোয়ালে ব্যথার মতো তুলনামূলক সূক্ষ্ম উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এসব লক্ষণ স্ট্রেস, উদ্বেগ, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কিংবা মেনোপজের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করে অনেকে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এতে হৃদ্‌রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পারিবারিকভাবে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস, মেনোপজ, দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ। এ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কখন জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে
হঠাৎ বুকে অস্বস্তি বা চাপ, তীব্র ও ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট কিংবা ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, বাহু বা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কয়েক মিনিট ধরে এসব উপসর্গ স্থায়ী হলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে নারীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, মানসিক চাপ কমানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সবসময় প্রচলিত বুকে ব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অস্বাভাবিক ক্লান্তিসহ শরীরে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা নেওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।