৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৫

অল্পতেই রেগে যান? নিয়ন্ত্রণে আনুন এভাবে

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি সম্পাদিত

অনেকেই আছে যাদের সামান্য বিষয়েই মাথা গরম বা মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। রাগ উঠলে নিজেকে সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। রাগ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি হলেও এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেটি জানা জরুরি। 

কারণ অনিয়ন্ত্রিত রাগ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাগকে দমন না করে ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করা গুরুত্বপূর্ণ। রাগের মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিতে কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

১. কিছু বলার আগে চিন্তা করুন
রাগের সময় মুখ থেকে এমন কথা বেরিয়ে যেতে পারে, যা পরে অনুশোচনার কারণ হয়। তাই উত্তেজিত অবস্থায় কোনো কথা বলার আগে কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নিন। পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিকেও একইভাবে কিছুটা সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন।

২. শান্ত হওয়ার পর নিজের কথা বলুন
মাথা ঠান্ডা হওয়ার পর নিজের হতাশা বা উদ্বেগ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা সহজ হয়। তবে কথা বলার সময় আক্রমণাত্মক না হয়ে দৃঢ় ও সরাসরি থাকুন। অন্যকে আঘাত করা কিংবা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে নিজের প্রয়োজন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরুন।

৩. শরীরচর্চা করুন
শারীরিক পরিশ্রম মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। রাগ বাড়তে থাকলে কিছুক্ষণ দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানোর মতো ব্যায়াম করতে পারেন। এ ছাড়া যে কোনো আনন্দদায়ক শারীরিক কাজে কিছু সময় ব্যয় করলেও মন কিছুটা শান্ত হতে পারে।

৪. সাময়িক বিরতি নিন
বিরতি নেওয়া শুধু শিশুদের জন্য নয়, বড়দের ক্ষেত্রেও কার্যকর। দিনের যেসব সময় বেশি চাপপূর্ণ, সেসব সময়ে নিজেকে ছোট ছোট বিরতি দিন। কয়েক মুহূর্তের নিরিবিলি সময় আপনাকে বিরক্তি বা রাগ ছাড়াই পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে প্রস্তুত করতে পারে।

৫. সমস্যার সমাধান খুঁজুন
যে বিষয়টি আপনাকে রাগিয়ে তুলেছে, সেটি নিয়ে বারবার চিন্তা না করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন। কিছু বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে এটিও মেনে নিতে হবে।

আপনি কোন বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেন আর কোনটি পারবেন না, সে বিষয়ে বাস্তববাদী হওয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, রাগ কোনো সমস্যার সমাধান করে না; বরং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 ৬. আমি দিয়ে কথা বলুন
অন্যকে দোষারোপ বা সমালোচনা করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই অভিযোগের পরিবর্তে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে আমি দিয়ে বাক্য শুরু করুন। যেমন: আপনি করেন না বলার বদলে বলা যেতে পারে আপনি কাজটা ছেড়ে চলে যাওয়ায় আমি বিরক্ত হয়েছি। এতে নিজের অনুভূতিটা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা যায়, আবার অপর ব্যক্তিকে সরাসরি দোষারোপও করা হয় না।

৭. ক্ষোভ জমিয়ে রাখবেন না
ক্ষমা করা রাগ ও ক্ষোভ কাটিয়ে ওঠার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। রাগ ও অন্যান্য নেতিবাচক অনুভূতিকে দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখলে তিক্ততা ও অবিচারের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। যে ব্যক্তি আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, তাকে ক্ষমা করার মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

৮. হাস্যরসের আশ্রয় নিন
হালকা রসিকতা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে পারে। তবে রাগের সময় বিদ্রূপ বা ব্যঙ্গ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে অপর ব্যক্তি আঘাত পেতে পারেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই এমনভাবে হাস্যরস ব্যবহার করুন, যাতে অন্য ব্যক্তি কষ্ট না পান এবং একই সঙ্গে আপনার উত্তেজনাও কিছুটা কমে আসে।

আরও দেখুন: মাত্র ১ বছরের অভিজ্ঞতায় চাকরি দেবে সিটি ব্যাংক

৯. শিথিল হওয়ার কৌশল চর্চা করুন
রাগের সময় বিভিন্ন ধরনের রিলাক্সেশন বা শিথিলতার কৌশল কাজে লাগানো যেতে পারে। গভীর শ্বাস নেওয়া, স্বস্তিদায়ক কোনো দৃশ্য কল্পনা করা কিংবা শান্ত হও এর মতো কোনো প্রশান্তিদায়ক শব্দ বা বাক্য বারবার মনে মনে বলা যেতে পারে।

এ ছাড়া গান শোনা, ডায়েরি লেখা বা কয়েকটি যোগাসন করাও মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে পারে। যে পদ্ধতিতে আপনি স্বস্তি অনুভব করেন, সেটিই অনুসরণ করতে পারেন।

১০. প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন
রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সবসময় সহজ নয়। তবে রাগ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, এমন আচরণ করতে বাধ্য করে যার জন্য পরে অনুশোচনা হয় কিংবা আপনার আশপাশের মানুষ কষ্ট পান, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা মোকাবিলায় একজন বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।