৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে? কারণ জানালেন চিকিৎসক
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও অনেকের সকালে ঘুমঘুম ভাব বা ক্লান্তি থেকে যায়। এর পেছনে শুধু ঘুমের সময় কম হওয়াই দায়ী নয়। ঘুমের নিয়মিততা বা প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার অভ্যাসও শরীরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে বলে জানিয়েছেন পারফরম্যান্স কোচ ও বিজ্ঞানী ড. অ্যান্ডি গ্যালপিন।
২৮ আগস্ট ড. মার্ক হাইম্যানের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি পডকাস্টের ভিডিও ক্লিপে ঘুম নিয়ে কথা বলেন ড. অ্যান্ডি গ্যালপিন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মানুষ সাধারণত কত ঘণ্টা ঘুমিয়েছে, সেদিকেই বেশি নজর দেয়। কিন্তু প্রতিদিন কখন ঘুমাতে যাচ্ছে এবং কখন ঘুম থেকে উঠছে এটা নিয়মিত মেনে চলার বিষয়টি অনেকেই গুরুত্ব দেন না।
ড. অ্যান্ডি গ্যালপিন বলেন, ‘সপ্তাহের কর্মদিবস ও ছুটির দিনে ঘুমের সময়ের বড় ধরনের পরিবর্তন শরীরে সোশ্যাল জেট ল্যাগ তৈরি করতে পারে। এতে মোট ঘুমের সময় ৮ ঘণ্টা হলেও শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছে বলে মনে নাও হতে পারে।’
কীভাবে তৈরি হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ?
ধরা যাক, কেউ সপ্তাহের কর্মদিবসে রাত ১০টায় ঘুমাতে যান এবং সকাল ৬টায় ঘুম থেকে ওঠেন। এতে তার ৮ ঘণ্টা ঘুম হয়। কিন্তু সপ্তাহের শেষে যদি তিনি রাত ২টায় ঘুমিয়ে সকাল ১০টায় ওঠেন, তাহলেও মোট ৮ ঘণ্টা ঘুম হচ্ছে। তবে ঘুমানোর সময়সূচিতে চার ঘণ্টার পরিবর্তন ঘটছে।
ড. অ্যান্ডি গ্যালপিন বলেন, ‘এভাবেই শরীরে এক ধরনের জেট ল্যাগ তৈরি হয়। অর্থাৎ কম ঘুমের কারণে নয়, বরং ঘুমের সময়সূচি বদলে যাওয়ার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে।’
অনেকেই সপ্তাহান্তে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সামাজিক অনুষ্ঠান বা মানসিকভাবে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রাতে দেরিতে ঘুমান এবং সকালে দেরি করে ওঠেন। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি থেকে এ ধরনের বড় পরিবর্তন শরীরে ক্লান্তি, ঝিমঝিম ভাব ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
আরও দেখুন: মেধার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
বয়স বাড়লে প্রভাব বেশি
ড. গ্যালপিন বলেন, ‘ঘুমের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ শুধু মোট কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, সেটিকে গুরুত্ব দেন। অথচ শরীর কেমন অনুভব করছে এবং দিনের কর্মক্ষমতার ক্ষেত্রে ঘুমের নিয়মিততা মোট ঘুমের সময়ের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।’
কারা বেশি ঝুঁকিতে এ বিষয়ে ড. গ্যালপিন বলেন, ‘২০ বছর বয়সী এবং ৩০-এর শুরুর দিকের অনেকেই ঘুমের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হলেও তা সামলে নিতে পারেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের সোশ্যাল জেট ল্যাগ শরীরে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি প্রতিদিন সাড়ে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও অনিয়মিত ঘুমের কারণে ক্লান্তি থেকে যেতে পারে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শরীরের অনুভূত শক্তি ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার ক্ষেত্রে এই নিয়মিততা ঘুমের মোট সময়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তাই ক্লান্তি কাটাতে শুধু কত ঘণ্টা ঘুমালেন, সেটির দিকে নজর দিলেই হবে না; ঘুমের সময়সূচি নিয়মিত রাখছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ছুটির দিন মানেই রাত জেগে দেরিতে ঘুমানো ও সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা নয়।এতে সাময়িক সময়ে আনন্দ মিললেও শরীরের ক্লান্তি পুরোপুরি কাটে না। বরং দীর্ঘদিন এমন অনিয়ম চলতে থাকলে নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস।