অতিরিক্ত আলু খেলে শরীরে যে সমস্যা তৈরি হয়
আলু বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের খাবারের অন্যতম পরিচিত উপাদান। ভর্তা, ভাজি, তরকারি থেকে শুরু করে ফাস্টফুড বিভিন্নভাবে আলু খাওয়া হয়। তবে পরিমাণের তুলনায় অতিরিক্ত আলু খাওয়া, বিশেষ করে ভাজা বা উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে নিয়মিত খেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আলু নিজে অস্বাস্থ্যকর কোনো খাবার নয়। এতে কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও কিছু পরিমাণ আঁশ রয়েছে। কিন্তু আলু কীভাবে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিই স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে
আলুতে প্রচুর স্টার্চ বা শ্বেতসার থাকে। বিশেষ করে সেদ্ধ বা রান্না করা আলু দ্রুত হজম হলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়তে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে সমস্যার কারণ হতে পারে।
তবে আলুর প্রভাব নির্ভর করে রান্নার ধরন, পরিমাণ এবং কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে তার ওপর। আলুর সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, ডিম বা মাছের মতো প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার থাকলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক কম হতে পারে।
বাড়তে পারে ওজন
আলুতে নিজস্বভাবে খুব বেশি ক্যালরি নেই। কিন্তু আলু যখন বেশি তেল দিয়ে ভাজা হয়, তখন এর ক্যালরি অনেক বেড়ে যায়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলুর চিপস কিংবা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু নিয়মিত বেশি খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে চিপসের মতো খাবারে লবণ ও চর্বির পরিমাণও বেশি থাকে। ফলে দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলে স্থূলতার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
হজমে সমস্যা হতে পারে
একসঙ্গে অনেক আলু খেলে কারও কারও পেট ভার লাগা, গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে আলু যদি অতিরিক্ত তেল-মসলায় রান্না করা হয়, তাহলে হজমের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
ভাজা আলুতে বাড়ে ক্ষতির ঝুঁকি
আলুর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় আলু নয়, বরং রান্নার পদ্ধতি। বেশি তেলে ভাজা আলুতে অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বি যুক্ত হয়। আলু উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজার সময় অ্যাক্রিলামাইড নামের একটি রাসায়নিকও তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রায় অ্যাক্রিলামাইড গ্রহণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা চলছে।
আরও দেখুন: হিমালয়ের হিমবাহে দ্রুত ক্ষয়, বাড়ছে বন্যা-ভূমিধসের ঝুঁকি
অতিরিক্ত লবণও সমস্যা তৈরি করতে পারে
চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা প্যাকেটজাত আলুর খাবারে সাধারণত লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত লবণ নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। তাই আলুর খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ যোগ না করাই ভালো।
তাহলে কি আলু বাদ দিতে হবে?
না। সুস্থ ব্যক্তির খাদ্যতালিকা থেকে আলু পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে, কম তেল ও কম লবণে রান্না করা আলু সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে ভাজা বা চিপসের পরিবর্তে সেদ্ধ, ঝোল বা কম তেলে রান্না করা আলু বেছে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে খাবারে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনের ভারসাম্য রাখা জরুরি।
আলু নিজে ক্ষতিকর নয়; বরং অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া এবং বিশেষ করে নিয়মিত ভাজা আলু, চিপস ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়াই বেশি উদ্বেগের বিষয়।ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে নিজের খাদ্যাভ্যাস চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা ভালো।