একসঙ্গে খাবার গ্রহণ কমায় ডিপ্রেশনের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা
নিউক্লিয়াস ফ্যামিলি আরও সহজভাবে একক পরিবারের সংখ্য যখন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ঠিক তখনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ‘সলো ইটার’ বা একা একা খাবার গ্রহণকারীর সংখ্যা। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস মানসিক জগতে জন্ম দিতে হতাশার। দীর্ঘদিন একা একা খাবার গ্রহণের এমন অভ্যাস নিয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। মানসিক হতাশার পাশাপাশি ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে গবেষণা। খবর বিবিসির
গবেষণা বলছে, একসঙ্গে বসে আহার করার সামাজিক রীতি বা ‘কমেনসালিটি’ কেবল মন ভালো রাখে না, বরং এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মস্তিষ্কের ক্ষয়রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি একাধিক বৈশ্বিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিচিত মানুষদের নিয়ে একসঙ্গে খাদ্য গ্রহণ মানুষের হতাশা বা ডিপ্রেশন কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মেধার বিকাশ ও বুদ্ধিমত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
চিনের ঝেজিয়াং প্রভিন্সিয়াল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষক এক্সিনয়ি ওয়াং ও তার দল ৬০ বছর বা তদুর্ধ বয়সসীমার ৯,৩৬১ জন নারীর ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায়, ডাইনিং টেবিলে মানুষের সংখ্যা বা উপস্থিতি হতাশার ঝুঁকি কমানোর একটি স্পষ্ট নিয়ামক। অর্থনৈতিক অবস্থা, শারীরিক স্বাস্থ্য কিংবা একা থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করার পরেও দেখা গেছে—একত্রে খাওয়ার একটি অনন্য ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।
একই চিত্র ফুটে উঠেছে টোকিওর এক গবেষণায়। সেখানে দেখা যায়, ৬৫-৭৪ বছর বয়সী যে সকল মানুষ পরিবারে বসবাস করেও একা খাবার খান, তাঁদের মানসিক অবসাদগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়মিত স্বজনদের সাথে নিয়ে খাওয়া মানুষদের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি।
বিশ্ব জুড়ে পরিচালিত ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এর তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের সাক্ষাৎকার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মানুষ যত বেশি বেলা অন্যদের সাথে ভাগ করে আহার গ্রহণ করে, তাদের সার্বিক জীবনের তৃপ্তি ও মানসিক অনুভূতি তত উন্নত হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ব্যক্তির কর্মসংস্থান বা আয়ের হার যেমন একজন মানুষের মানসিক সন্তুষ্টি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে, নিয়মিত পরিবারের বা বন্ধুদের সাথে খাওয়া-দাওয়ার প্রভাবও প্রায় একই সমমানের।
ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি হ্রাস
একত্রে খাদ্য গ্রহণ শুধু মনের ওপর নয়, মস্তিষ্কের গঠন বজায় রাখতেও প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক জাপানি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত একা একা খাবার গ্রহণ করেন, তাদের মস্তিষ্কের কগনিটিভ অংশ—বিশেষ করে ‘মিডিয়াল টেম্পোরাল লোব’ এবং ‘হিপোক্যাম্পাস’-এর আয়তন কমে যাওয়ার উচ্চ প্রবণতা থাকে। সাধারণত মস্তিষ্কের এই এলাকাগুলো স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দলবদ্ধভাবে খাবার গ্রহণের আনন্দ এবং সামাজিক মেলামেশা শরীরের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্কের টিস্যু ও কার্যক্ষমতা হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এছাড়া খাবার টেবিলে আলাপ-আলোচনা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে উদ্দীপনা দেয়, যা বৃদ্ধ বয়সে গিয়ে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমায়।