২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮

রাতারাতি স্বাস্থ্যবান হওয়ার ভাইরাল ‘ম্যাক্সিং’ ট্রেন্ড কি আসলেই উপকারী, নাকি বিপজ্জনক?

টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ঝড় তুলেছে নতুন এক ট্রেন্ড ‘ম্যাক্সিং’  © এআই সৃষ্ট ছবি

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলেই আজকাল নানা ধরনের স্বাস্থ্য পরামর্শের ভিডিও চোখে পড়ে। দ্রুত মেদ কমানো, পেশি বাড়ানো, দারুণ ঘুম কিংবা প্রজননক্ষমতা বাড়ানোর জন্য টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ঝড় তুলেছে নতুন এক ট্রেন্ড ‘ম্যাক্সিং’ (Maxxing)। সোজা কথায়, শরীরের কোনো নির্দিষ্ট ফিচার বা স্বাস্থ্যকে রাতারাতি সেরা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।

প্রথম দেখায় বিষয়গুলোকে খুব উপকারী মনে হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। তাদের মতে, ঝোঁকের মাথায় বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন এসব শর্টকাট বা ট্রেন্ড অন্ধভাবে অনুসরণ করলে শরীরের উপকারের চেয়ে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকিই বেশি। ​সম্প্রতি বেশ কিছু জনপ্রিয় ‘ম্যাক্সিং’ ট্রেন্ডের ভালো-মন্দ নিয়ে মতামত দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

১. প্রোটিন ও ফাইবারম্যাক্সিং: বেশি খেলেই কি শরীর ভালো থাকে?
শরীরের জন্য প্রোটিন আর ফাইবার খুব প্রয়োজনীয়। কিন্তু ‘প্রোটিনম্যাক্সিং’ বা ‘ফাইবারম্যাক্সিং’ ট্রেন্ডে বলা হচ্ছে, যত পারো বেশি খাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি ভুল।

​ঝুঁকি: হঠাৎ করে ডায়েটে অতিরিক্ত ফাইবার বাড়িয়ে দিলে পেটে গ্যাস, পেট ফাপা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। আর শুধু প্রোটিন খাওয়ার চক্করে থাকলে শরীর অন্যান্য দরকারি ভিটামিন, খনিজ ও কার্বোহাইড্রেট পায় না। ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

​সমাধান: সুস্থ থাকতে কতটুকু প্রোটিন বা ফাইবার লাগবে, তা নির্ভর করে আপনার বয়স, ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের ওপর। তাড়াহুড়ো না করে প্রতিদিনের খাবারে ধীরে ধীরে শাকসবজি ও প্রোটিন বাড়ানো উচিত।

​২. স্লিপম্যাক্সিং: ঘুম ভালো করতে গিয়ে আবার অসুখ ডেকে আনছেন না তো?
রাতে চমৎকার ঘুমের জন্য নানাবিধ গ্যাজেট, স্মার্টওয়াচ, কড়া নিয়ম, এমনকি রাতে মুখ টেপ দিয়ে আটকে ঘুমানোর মতো ট্রেন্ডকে বলা হচ্ছে ‘স্লিপম্যাক্সিং’।

​ঝুঁকি: স্মার্টওয়াচ বা অ্যাপ সবসময় ঘুমের সঠিক তথ্য দিতে পারে না। সকালে উঠে ট্র্যাকিং অ্যাপে ‘আজ ভালো ঘুম হয়নি’ দেখলে অনেকে মানসিক চিন্তায় পড়ে যান, যা উল্টো রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অর্থোসোমনিয়া’ বলে। আর মুখে কস্টেপ মেরে ঘুমাতে গেলে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস আটকে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

​সমাধান: দিনে যদি আপনি সতেজ অনুভব করেন, তবে বুঝতে হবে আপনার ঘুম ঠিকঠাক হয়েছে। অ্যাপের পেছনের লাল-সবুজ দাগ দেখে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। ঘুমের তীব্র সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যান, কোনো অ্যাপ বা গ্যাজেট দিয়ে চিকিৎসা হয় না।

আরও পড়ুন: রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙে, কোন রোগে ভুগছেন?

​৩. ফার্টিলিটিম্যাক্সিং: অদ্ভুত উপায়ে বাড়ে না প্রজননক্ষমতা
পুরুষদের শুক্রাণু বা প্রজননক্ষমতা বাড়াতে নেট দুনিয়ায় এখন চলছে ‘ফার্টিলিটিম্যাক্সিং’। এখানে দাবি করা হচ্ছে, কাঁচা রসুন খাওয়া, গুপ্তাঙ্গে বরফ দেওয়া কিংবা রোদ লাগালে নাকি সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়!

প্রজনন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কাঁচা রসুন খাওয়া বা বরফ দেওয়ার সাথে উর্বরতা বাড়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। আর রোদে বা অতিরিক্ত গরমে শুক্রাণুর সংখ্যা উল্টো কমে যেতে পারে। ​তাই পুরুষদের এই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া ভালো দিক, তবে ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামের ভিডিও দেখে ঘরোয়া চিকিৎসা করা চরম ভুল। সমস্যা মনে হলে সরাসরি ইউরোলজিস্ট বা অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

​সামাজিক মাধ্যমের রঙিন ভিডিও আর চটকদার কথায় ভেসে গিয়ে নিজের শরীর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো একেবারেই উচিত নয়। ফিট থাকার কোনো শর্টকাট বা ম্যাজিক ফর্মুলা নেই। সুষম খাবার খাওয়া, নিয়ম মেনে ঘুমানো আর নিয়মিত ব্যায়াম করার ওপর আর কোনো বড় ম্যাজিক নেই। ভুল ট্রেন্ডে পা দেওয়ার আগে নিজের শরীরের কথা চিন্তা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।