২১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০১

বারবার পা ফুলছে? নেপথ্যে থাকতে পারে ৫ জটিল রোগ

পা ফুলে যাওয়া   © আনন্দবাজার

বারবার বা অকারণে পা ফুলে গেলে সেটিকে শুধু অতিরিক্ত হাঁটাচলা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা আঁটসাঁট জুতা পরার ফল মনে করে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়ার নেপথ্যে কিডনির সমস্যার পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্র, শিরায় রক্ত চলাচলের জটিলতা, রক্ত জমাট বাঁধা কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে। তাই এমন সমস্যা বারবার হলে কারণটি খুঁজে দেখা জরুরি।

অনেকেই পা ফুলে যাওয়াকে খুব সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। কেউ কেউ অতিরিক্ত হাঁটাচলা কিংবা আঁটসাঁট জুতা পরার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, পা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ অনেক সময় শরীরের ভেতরে থাকা কোনো জটিল সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

চিকিৎসক এসএ মল্লিকের মতে, পা ফুললেই অনেক রোগী মনে করেন, তাঁদের হয়তো কিডনি বিকল হয়ে গেছে। তবে সব সময় পা ফোলার সঙ্গে কিডনির সমস্যার যোগ থাকে না। পা ফুলে যাওয়ার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।

১) ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি: পায়ের শিরার মধ্য দিয়ে যে দূষিত রক্ত হৃদ্‌যন্ত্রে ফিরে যাওয়ার কথা, সেটি ঠিকভাবে ফিরে না গিয়ে উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে পায়েই জমতে শুরু করলে পা ফুলে যেতে পারে। সাধারণত কাজের প্রয়োজনে দিনের অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়—যেমন ট্রাফিক পুলিশ বা শিক্ষক—এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যে ভাল্‌ভগুলোর মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন হয়, সেগুলো ঠিকভাবে কাজ না করলে মাধ্যাকর্ষণের টানে রক্ত হৃদ্‌যন্ত্রে না গিয়ে পায়ের নিচের দিকে এসে জমা হতে পারে। এর ফলে পা ফুলতে শুরু করে।

২) হার্ট ফেইলিউর: হার্ট ফেইলিউরের ক্ষেত্রে পা ফুলে যাওয়ার কারণ হলো দুর্বল হৃদ্‌যন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না। এর ফলে শিরায় রক্ত জমে গিয়ে চাপ বেড়ে যায় এবং তরল পদার্থ আশপাশের টিস্যু বা কলায় ছড়িয়ে পড়ে। তরল পদার্থের এই জমে যাওয়াকে ‘এডিমা’ বলা হয়। এ কারণেই পায়ের নিচের অংশ, গোড়ালি ও পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যেতে পারে।

৩) কিডনির সমস্যা: পা ফুলে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো কিডনির সমস্যা। শরীরের এই অঙ্গটি ঠিকমতো কাজ না করলে পানি ও লবণ শরীর থেকে ঠিকভাবে বের হতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত তরল টিস্যুতে জমতে শুরু করে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যায় পায়ে।

৪) ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস: শরীরের শিরা-উপশিরার প্রধান কাজ হলো রক্তকে আবার হৃদ্‌যন্ত্রে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। শিরায় রক্তপ্রবাহের গতি কমে গেলে অথবা রক্তের স্বাভাবিক জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে শরীরের নিচের অংশের শিরায় রক্ত আটকে যেতে পারে। এ কারণেও পা ফুলে যায়।

কখনো পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ঠিক হয়ে যেতে পারে, আবার কখনো বেশ কিছু দিন পরও একই অবস্থা থাকতে পারে। তবে ডিপ ভেন থ্রম্বোসিসকে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। শিরায় জমাট বাঁধা রক্তের অংশ ছুটে ফুসফুসে পৌঁছে পালমোনারি এমবোলিজম ঘটাতে পারে, যা অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে।

৫) ওষুধের কারণে: পা ও গোড়ালিতে ফোলা ভাব বা ‘পেরিফেরাল এডিমা’ বেশ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও হতে পারে। এর জন্য দায়ী ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যামলোডিপিনের মতো উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, আইবুপ্রোফেনের মতো বেদনানাশক, পিয়োগ্লিটাজোনের মতো ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং প্রেডনিসোনের মতো স্টেরয়েড।

তাই বারবার পা ফুলে গেলে বিষয়টিকে সামান্য সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এর পেছনে থাকা কারণ চিহ্নিত করতে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সাধারণ মনে হওয়া পা ফোলার এই উপসর্গের নেপথ্যে থাকতে পারে কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র কিংবা শিরায় রক্ত চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক জটিলতা। 

সংবাদসূত্রঃ আনন্দবাজার