২০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৩

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, নিজেসহ পরিবারকে নিরাপদ রাখতে করুন এই ৯ কাজ

ডেঙ্গুর থেকে রক্ষা পেতে চাইলে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে  © এআই সৃষ্ট ছবি

​বর্ষার টানা বৃষ্টি আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন যোগ হচ্ছেন নতুন নতুন ডেঙ্গু রোগী। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় এডিস মশার প্রজনন মৌসুম ও বিস্তৃতি যেমন বাড়ছে, তেমনই বাংলাদেশেও তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০টি দেশে ডেঙ্গু প্রকোপ চলছে। চলতি বছরেই বিশ্বব্যাপী ১৫ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাবে মশার ঘনত্ব ও ভাইরাসের রূপান্তর আশঙ্কাজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছর ধরেই ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন বেড়েই চলেছে। ২০২৩ সালে রেকর্ড সংক্রমণ ও দেড় হাজারের অধিক মৃত্যুর পর, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত ও শত শত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরেও এ পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং আক্রান্তদের মধ্যে দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছানো ও ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়ছে।

যে ৯ কাজে কমতে পারে ঝুঁকি
​এডিস মশার কামড় ও ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) ও সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিনের অভ্যাসে নিচের ৯টি কাজের মাধ্যমে ঝুঁকি এড়ানো যেতে পারে।

১. ​পরিবেশ পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা: এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ঘরের ভেতর, বারান্দা এবং চারপাশ সব সময় শুকনো ও পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ​পরিত্যক্ত পাত্র সরিয়ে ফেলা: ভাঙা ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের কাপ, ক্যান বা পুরনো টায়ারের মতো পাত্র যা পানি ধরে রাখতে পারে, তা দ্রুত ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

৩. ​পানি জমার স্থান পরিষ্কার (৩ দিনের নিয়ম): যেকোনো পাত্রে জমা পানি ৩ দিনের বেশি রাখা যাবে না। ছাদ, বারান্দার টব, গ্যারেজ কিংবা বেজমেন্টে পানি জমেছে কি না তা প্রতিদিন পরীক্ষা করে ৩ দিনের আগেই ফেলে দিন।

৪. ​ব্যবহার্য পানির পাত্র মেজে রাখা: গৃহস্থালির প্রয়োজনে পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতে হলে প্রতি ৩ দিন পর পর পাত্রটির দেয়াল ভালো করে ঘষে মেজে ধুয়ে পরিষ্কার করুন, যেন জমে থাকা ডিম ধ্বংস হয়।

৫. ​নির্মাণাধীন ভবনে বিশেষ সতর্কতামূলক নজরদারি: এডিস মশার অন্যতম পছন্দের স্থান হলো নির্মাণাধীন ভবন। আপনার বা আশেপাশের নির্মাণাধীন ভবনে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিন।

৬. ​লার্ভিসাইড বা কেমিক্যাল ট্যাবলেটের প্রয়োগ: মিটারের ড্রেন বা যেসব স্থানে পানি আটকে থাকে, সেখানে নিয়মিত সিটি কর্পোরেশন সরবরাহকৃত লার্ভিসাইড বা 'নোভালিউরন' ট্যাবলেট ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন: এসএসসির পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ

৭. ​প্রতি সপ্তাহে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: সপ্তাহের ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ঘরের আঙিনা, বারান্দা ও ছাদ পরিদর্শনের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৮. ​দিন-রাত আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার: এডিস মশা মূলত দিনের বেলা এবং আলো-আঁধারিতে বেশি কামড়ায়। তাই দিনে ঘুমানো বা বিশ্রামের সময়ও আবশ্যিকভাবে টাঙানো মশারি বা মসকিউটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।

৯. ​জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ: শরীরে জ্বর এলে অবহেলা না করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই ডেঙ্গুর এনএস-১ অ্যান্টিজেন টেস্ট করান। কোনোভাবেই মনগড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা পেইনকিলার খাবেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ​ব্যক্তিগত সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক। আপনার বাসাবাড়ি লার্ভামুক্ত রাখার সাথে সাথে জ্বর এলেই দেরি না করে প্রচুর তরল খাবার (যেমন: খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ) খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।