সন্ধ্যার পর যে ৪ কাজ করলে বেড়ে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকি!
দিনভর কাজের পর সন্ধ্যায় একটু আরাম করতে সোফায় গা এলিয়ে দেওয়া, পছন্দের খাবার অর্ডার করা কিংবা রাতের খাবারের সঙ্গে এক পেগ পানীয়—এসব অনেকের কাছেই দিনের ক্লান্তি কাটানোর স্বাভাবিক উপায়। কিন্তু প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলোই যদি নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়, তাহলে অজান্তেই বাড়তে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরের কিছু অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যার কারণ হয়ে দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়লেও যে কোনো বয়সেই এটি হতে পারে। তাই শুধু দিনের খাবার বা ব্যায়ামের দিকে নজর দিলেই হবে না, দিনের শেষভাগে কী করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ধ্যার পর কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
১. উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাবার
সোডিয়াম শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা এবং পেশির সংকোচন-প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। আর উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি।
রাতের খাবারের সময় অনেকেই অজান্তে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সোডিয়াম খেয়ে ফেলেন। রেস্তোরাঁর খাবার, পিৎজা, স্যুপ, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ অনেক প্রস্তুত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া সমস্যা আরও বাড়াতে পারে। তাই সন্ধ্যা বা রাতে অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
২. অ্যালকোহল
রাতের খাবারের সঙ্গে এক গ্লাস ওয়াইন বা ককটেল অনেকের কাছে ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার সহজ উপায় মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত সন্ধ্যার রুটিনে অ্যালকোহল রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি পরিমিত অ্যালকোহলও রক্তনালির স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি এটি উচ্চ রক্তচাপ ও শরীরে প্রদাহ বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
সন্ধ্যার পর অ্যালকোহল পান করলে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। অথচ পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম শরীর সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
৩. অতিরিক্ত চিনি
সন্ধ্যায় হালকা খিদে পেলেই মিষ্টি, মিষ্টি পানীয় বা প্যাকেটজাত খাবারের দিকে হাত বাড়ানো অনেকের অভ্যাস। কিন্তু এসব খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি চিনি ঢুকে যেতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি নিয়মিত গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন ও টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব সমস্যাই আবার দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারেও অনেক সময় লুকানো চিনি থাকে।
সন্ধ্যায় হালকা খিদে পেলে মিষ্টির বদলে প্রোটিন, ফাইবার বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিতে পারেন। ফলের সঙ্গে গ্রিক ইয়োগার্ট, লবণ ছাড়া বাদাম, মাখানা বা ড্রাইফ্রুটস ভালো বিকল্প হতে পারে।
৪. দীর্ঘ সময় বসে থাকা
সারাদিন অফিসে বসে কাজ করার পর সন্ধ্যায় সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটান, তাদের জন্য সন্ধ্যার পরও দীর্ঘ সময় বসে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়।
তাই দিনের শেষভাগে কিছুটা সময় শরীরচর্চার জন্য রাখা ভালো। জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত আধা ঘণ্টা দ্রুত হাঁটাও শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমিয়ে প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: নিয়মিত তোকমা খেলে তরতরিয়ে কমে যাবে রক্তের কোলেস্টেরল, খাবেন যেভাবে
সন্ধ্যার পরের এই অভ্যাসগুলো একদিনেই স্ট্রোকের কারণ হয়ে যায় না। তবে দিনের পর দিন এগুলো চলতে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, স্থূলতা ও ঘুমের সমস্যার মতো বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই রাতের রুটিনে সামান্য পরিবর্তন এনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুরক্ষিত রাখার ভালো উপায়।