১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৫

গ্যাস-বুকজ্বালা কমাতে খালি পেটে কুসুম গরম পানি খাচ্ছেন, উপকার পেতে কত গ্লাস খাবেন?

কুসুম গরম পানি  © সংগৃহীত

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লিকার চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে অনেকের। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে খালি পেটে চা বা কফি খাওয়া ঠিক নয়। এর পরিবর্তে সকালে কুসুম গরম পানি পান করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। তাদের মতে, দিন শুরুতে হালকা গরম পানি পান করলে শরীরের বিভিন্ন উপকার হতে পারে। তবে কতটা পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে, তা অনেকেরই জানা নেই।

খালি পেটে কুসুম গরম পানি খেলে কী হয়

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কুসুম গরম পানি বেশ কার্যকর হতে পারে। সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানি পান করলে পেট পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে মলদ্বারের সংক্রমণের ঝুঁকিও কমতে পারে। কুসুম গরম পানি শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্স ওয়াটার হিসেবেও কাজ করে বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে শরীর থেকে বর্জ্য বের করতে বিভিন্ন ধরনের ভেষজ মেশানো ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। 

তবে আলাদা কোনো ভেষজ ছাড়াও হালকা গরম পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়তা করতে পারে। এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। হালকা গরম পানি শরীরের বিপাক হার বাড়াতেও সাহায্য করে। এতে পরিপাকতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ে। হজমশক্তিও উন্নত হতে পারে। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে কুসুম গরম পানি পান করলে গ্যাস ও অম্বলের ঝুঁকিও অনেকটাই কমতে পারে।

রাতের বেলায় টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সাধারণত পানি পান করা হয় না। এতে সকালে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই সকালে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে কুসুম গরম পানি পান করা উপকারী।

পানি কতটা গরম করবেন

পানি একেবারে ফুটন্ত গরম করে পান করা উচিত নয়। এতে খাদ্যনালির ক্ষতি হতে পারে। পানি ফুটিয়ে নেওয়ারও আলাদা প্রয়োজন নেই। হালকা গরম করে নিলেই যথেষ্ট। উপকারিতা বাড়াতে চাইলে আগের রাতে পানিতে জিরা, জোয়ান, মেথিদানা কিংবা মৌরি ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। পরদিন সকালে সেই পানি হালকা গরম করে পান করলে হজমের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত কমতে পারে।

কত গ্লাস পানি খাবেন

দিনের শুরুতে সাধারণত ২ থেকে ৩ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। তবে সবার পক্ষে সকালে খালি পেটে একবারে এতটা পানি পান করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুরুতে এক গ্লাস বা দুই কাপ পানি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। পরে ধীরে ধীরে শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পানির পরিমাণ বাড়ানো উচিত।