মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে যেসব পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ জরুরি
মস্তিষ্ক শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ঠিক রাখতে প্রয়োজন পুষ্টিকর ও সুষম খাবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের কার্যক্রমের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তিতে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে নিউরোসার্জন ডা. রাহুল চাওলার পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান এবং সেগুলোর খাদ্য উৎস সম্পর্কে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।
ভিটামিন বি১২
মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলোর একটি ভিটামিন বি১২। মস্তিষ্কের নিউরনের মায়েলিন আবরণ সুরক্ষায় এটি প্রয়োজন। এর ঘাটতি হলে ব্রেন ফগ, স্নায়ুর সমস্যা, ভারসাম্যহীনতা ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মাংস, কলিজা, মাছ, মুরগি, ডিম এবং দুধ, দই ও পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবারে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
বিশেষ করে ডিএইচএ মস্তিষ্কের কোষের আবরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখে। মাছ ডিএইচএর অন্যতম ভালো উৎস।
এগুলো ছাড়াও নিরামিষভোজীরা তিসি বীজ, চিয়া বীজ ও আখরোট থেকে ওমেগা-৩ পেতে পারেন।
আয়রন
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য আয়রনও প্রয়োজনীয়। আয়রনের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং চিন্তাশক্তি ধীর হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে রাতে পায়ে অস্বস্তি ও বারবার পা নাড়ানোর প্রবণতা বা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের সম্পর্কও দেখা যায়। এছাড়াও মাংস, মাছ, ডাল, রাজমা ও পালং শাকও আয়রনের ভালো উৎস।
ফলিক অ্যাসিড
স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ফলিক অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এর ঘাটতি থাকলে স্মৃতিশক্তির সমস্যা, ব্রেন ফগ এবং বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ভিটামিন বি১২ ও ফলেটের ঘাটতি একই সঙ্গে দেখা যায়। পালং শাক, মেথি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, সাইট্রাসজাতীয় ফল, ডিম ও মাংসে ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।
আরও দেখুন: ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসক-কর্মচারী দু’পক্ষের মারামারি, পরিচালক অবরুদ্ধ
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ফ্ল্যাভোনয়েডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ কমাতে এবং জ্ঞানীয় কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। বেরি জাতীয় ফল, সবুজ শাকসবজি ও ডার্ক চকলেটে এসব উপাদান পাওয়া যায়।
এ ছাড়া মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য কোলিন, ম্যাগনেশিয়াম এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শরীরে কোনো পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী পূরণ করা এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার রাখা।
অনেকে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে এমন ধারণা থেকে উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে এটি অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাই ভালো।