০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা, ওজন কমাতে আসছে ‘জিএলপি-৩’

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।  © এআই সম্পাদিত

দেশে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ (প্রতি ৮ জনে ১ জন) ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয়। এই ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা।

স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় সেই নতুন সম্ভাবনার নাম ‘জিএলপি-৩’ (GLP-3)। গবেষকদের দাবি, এটি বর্তমানের জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধগুলোর চেয়েও কার্যকর হতে পারে। কারণ, এই নতুন প্রজন্মের ওষুধ একসঙ্গে তিনটি ভিন্ন হরমোনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে ক্ষুধা কমানো, ক্যালোরি পোড়ানো এবং শরীরে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে কাজ করে। যদিও ওষুধটি এখনো গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে অনুমোদন পায়নি, তবু প্রাথমিক ফলাফল ইতোমধ্যেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

জিএলপি-১ ও জিএলপি-৩-এর পার্থক্য কী?
বর্তমানে ব্যবহৃত জিএলপি-১ ওষুধ, যেমন সেমাগ্লুটাইড, মূলত একটি হরমোনের পথকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এটি ক্ষুধা কমায়, পাকস্থলী থেকে খাবার ধীরে বের হতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

অন্যদিকে টিরজেপাটাইড-এর মতো ওষুধ দুটি হরমোন জিএলপি-১ ও জিআইপি-এর ওপর একসঙ্গে কাজ করে। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমাতেও বেশি কার্যকর হতে পারে।

নতুন প্রজন্মের তথাকথিত জিএলপি-৩ ওষুধ আরও এক ধাপ এগিয়ে। এটি একই সঙ্গে তিনটি বিপাকীয় (মেটাবলিক) পথকে লক্ষ্য করে কাজ করে-

জিএলপি-১: এটি মূলত ক্ষুধা কমায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়।

জিআইপি: ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়াতে সহায়তা করে এবং শরীরে চর্বি ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখে।

গ্লুকাগন: শরীরের শক্তি ব্যয় বাড়ায়, বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত করে এবং যকৃতে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএলপি-১ ও জিআইপি ক্ষুধা কমিয়ে ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গ্লুকাগন শরীরকে আরও বেশি ক্যালোরি পোড়াতে এবং সঞ্চিত চর্বি ভাঙতে সহায়তা করে। এই তিনটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে কাজ করায় ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নতুন এই ওষুধগুলো আরও কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচনায় রেটাট্রুটাইড
এই শ্রেণির সবচেয়ে আলোচিত পরীক্ষামূলক ওষুধ রেটাট্রুটাইড। এটি বর্তমানে শেষ ধাপের (ফেজ-৩) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, সর্বোচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ গ্রহণকারীদের শরীরের ওজন ৮০ থেকে ১০৪ সপ্তাহে গড়ে ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অর্থাৎ প্রায় দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওজন হ্রাসের প্রমাণ মিলেছে।

তবে বর্তমানে এই ওষুধ পাওয়া যাবে না। জিএলপি-৩ শ্রেণির কোনো ওষুধ এখনো বাজারে অনুমোদিত নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনলাইনে বিক্রি হওয়া অননুমোদিত 'জিএলপি-৩' বা পেপটাইডজাতীয় পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি
বর্তমানের জিএলপি-১ ওষুধগুলোর ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে একটি বক্সড ওয়ার্নিং রয়েছে। তবে নতুন জিএলপি-৩ ওষুধেও একই ধরনের সতর্কবার্তা থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএলপি-৩ ওষুধ স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার আগে এর অনুমোদনের জন্য আরও গবেষণার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।


[সূত্র: হেল্থলাইন]