নিশ্চিত মৃত্যুর রোগ জলাতঙ্কের শিকার শিশুরা: একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সমস্যা
সম্প্রতি শিশুদের ওপর কুকুরের আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল, মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে, যা স্থায়ী বিকৃতি, সংক্রমণ, মানসিক ট্রমা— এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
— শিশুদের কখনোই কুকুরের সাথে একা রাখা উচিত নয়, এমনকি পরিচিত পোষা কুকুরের সাথেও নয়।
— খাওয়ার সময়, ঘুমানোর সময় বা বাচ্চাসহ কুকুরের বাচ্চাদের কাছে গেলে কুকুর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
— রাস্তায় থাকা কুকুরকে উত্ত্যক্ত করা, দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করা বা হঠাৎ কাছে যাওয়া থেকে শিশুদের বিরত রাখতে হবে।
— কুকুরের কামড় বা আঁচড় লাগলে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধে সময়মতো টিকা জীবন রক্ষা করতে পারে।
আমেরিকায় বছরে দশজনের কম লোক মারা যায় জলাতঙ্কে, অথচ আমাদের দেশে কত লোক মারা যায় তার কোন পরিসংখ্যান নাই। জলাতঙ্কে আক্রান্তের পর শতভাগ মর্টালিটি, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে মারা যায় শিশুরা। ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনা যেন কোনো শিশুর সারাজীবনের কষ্টের কারণ না হয়।
ডা. উমাইর চৌধুরী
রেসিডেন্ট প্রশিক্ষণার্থী, শিশু সার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
এমবিবিএস, শিরাজ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ইরান