১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১

হার্টবিটের ছোট পরিবর্তন জানিয়ে দিতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি

হৃদযন্ত্র  © সংগৃহীত

প্রতি মিনিটে হৃদ্‌যন্ত্র কতবার স্পন্দিত হচ্ছে, সাধারণত সেটিই হার্ট রেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু হৃদস্পন্দনের সংখ্যা নয়, এক স্পন্দন থেকে আরেক স্পন্দনের মধ্যকার সময়ের সামান্য ওঠানামাও শরীরের নানা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। 

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি’ (এইচআরভি) নামে পরিচিত এই সূচক বিশ্লেষণ করে মানসিক চাপ, ঘুমের মান, ব্যায়ামের সক্ষমতা, হৃদ্‌স্বাস্থ্য এমনকি ভবিষ্যতের কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিরও আগাম আভাস পাওয়া যেতে পারে।

এইচআরভি কী?
স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদযন্ত্র নিয়মিতভাবে স্পন্দিত হলেও প্রতিটি স্পন্দনের মাঝে সময়ের সামান্য পার্থক্য থাকে। এই ক্ষুদ্র পরিবর্তন মিলিসেকেন্ডে মাপা হয়। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণভাবে বেশি এইচআরভি ভালো লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। কারণ এটি নির্দেশ করে যে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছে।

দৌড়ানো, ব্যায়াম বা মানসিক চাপের সময় শরীরের! ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হলে হৃদস্পন্দন দ্রুত ও নিয়মিত হয়ে যায়, ফলে এইচআরভি কমে। আর বিশ্রামের সময় শরীর ‘রেস্ট-অ্যান্ড-ডাইজেস্ট’ অবস্থায় ফিরলে এইচআরভি বাড়ে। 

গবেষকদের মতে, উচ্চ এইচআরভি শরীরের চাপ কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগ, বিষণ্নতা, পিটিএসডি, ডিমেনশিয়া ও স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের এইচআরভি তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এইচআরভি শরীরের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারে। যেহেতু এইচআরভি শরীর কতটা ভালোভাবে চাপ সামলাচ্ছে তা বোঝায়, তাই এটি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকিরও ইঙ্গিত দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: বিএফএসএ

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম কি সাহায্য করে?
কিছু কিছু গবেষক মনে করেন, সচেতনভাবে এইচআরভি উন্নত করা সম্ভব। বিশেষ করে ধীর ও নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এতে সহায়ক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী টিম হারজগ প্রতিদিন দুইবার প্রায় ২০ মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলনের পরামর্শ দেন। যেমন চার সেকেন্ড ধরে শ্বাস নেওয়া এবং ছয় সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের অনুশীলন পিটিএসডি ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসিক উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া ঘুমের উন্নতি, রক্তচাপ কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমানোর সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

কীভাবে এইচআরভি ট্র্যাক করবেন?
বর্তমানে অনেক স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকার দিয়ে এইচআরভি মাপা যায়। তবে বুকে লাগানো সেন্সরযুক্ত ডিভাইস তুলনামূলক বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিনের এইচআরভি নয়, দীর্ঘ সময়ের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ব্যায়ামে এইচআরভি কমতে পারে, আর নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে এটি উন্নত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, এইচআরভি গুরুত্বপূর্ণ হলেও হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও কোলেস্টেরলের মতো মৌলিক স্বাস্থ্যসূচকের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। (সূত্র: বিবিসি)