ফুচকার টক পানিতে লুকিয়ে থাকে পেটের অসুখ, বর্ষায় কেন বাড়ে ঝুঁকি?
ফুচকা কার না পছন্দ? ঝাল, টক আর মুচমুচে স্বাদের কারণে মেয়েদের সবচেয়ে পছন্দের ফার্স্ট ফুড আইটেম এটি। কোথাও ঘুরতে গেলে, বিকেলের আড্ডা, কিংবা বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এক প্লেট ফুচকার লোভ সামলানো কঠিন। তবে বর্ষাকালে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কারণ, ফুচকার টক পানিতে থাকা জীবাণু ডেকে আনতে পারে পেটের নানা ধরনের সংক্রমণ।
বর্ষা মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। একই সঙ্গে তাপমাত্রাও জীবাণুর বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে খোলা জায়গায় রাখা খাবার ও পানিতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া ফুচকার টক পানিও এর ব্যতিক্রম নয়।
চিকিৎসকদের মতে, ফুচকার টক পানি তৈরিতে ব্যবহৃত পুদিনাপাতা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন উপকরণ সবসময় পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে খাবার তৈরির পরিবেশও স্বাস্থ্যসম্মত থাকে না। ফলে এসব উপাদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু পানিতে মিশে যেতে পারে।
ভারতের ঠাণের গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট ডা. মণীশ দদমানির মতে, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ই-কোলাইসহ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে অন্ত্রে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের ফলে পেটব্যথা, পেট মোচড়ানো, পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধা না লাগা কিংবা বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে গিয়ে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সংক্রমণ বেশি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেন
পেটে প্রচন্ড ব্যথা বা মোচড় দেওয়া, ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি বা বমি বমি ভাব, কিছু না খেলেও ক্ষুধা না লাগা, দুর্বল অনুভূত হওয়া এবং পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
বর্ষাকালে রাস্তার খোলা খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, ফুচকা খেলে টক পানি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে, খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা হয় এমন দোকান থেকে খাবার খেতে হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার