১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫২

শুধু ঘাম নয়, ভুল পোশাকেও বাড়তে পারে র‌্যাশ ও ত্বকের সংক্রমণ

চুলকানি ও র‌্যাশ  © সংগৃহীত

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ঘাম, চুলকানি, র‌্যাশ ও ফুসকুড়ির সমস্যায় ভোগেন অনেক নারী ও পুরুষ। বিশেষ করে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হলে ত্বকে নানা ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। তবে অনেকেই জানেন না, এসব সমস্যার জন্য শুধু আবহাওয়া নয়, পোশাক নির্বাচনের ভুলও দায়ী হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ঘাম জমে থাকলে ত্বকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি সহজ হয়। এর ফলে ঘামাচি, র‌্যাশ, চুলকানি, ত্বকের লালচে ভাব এবং সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘাড়, বগল, কুঁচকি, পিঠ এবং শরীরের যেসব অংশে ভাঁজ বেশি, সেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এসব সমস্যা বেশি দেখা যায়, কারণ এসব স্থানে ঘাম তুলনামূলক বেশি জমে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের সময় পোশাক নির্বাচনে সতর্ক না হলে ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। অনেকেই ফ্যাশনের কারণে মোটা কাপড় বা কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাক পরেন। কিন্তু এসব কাপড় বাতাস চলাচলে বাধা দেয় এবং ঘাম আটকে রাখে। ফলে নারী ও পুরুষ উভয়ের ত্বক দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেঁতে থাকে, যা জীবাণুর বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

কোন ধরনের পোশাক উপকারী?
গরমের সময়ে সুতি, লিনেন বা অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি পোশাক নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং ত্বককে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া হালকা রঙের পোশাক সূর্যের তাপ কম শোষণ করে, ফলে শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।

আঁটসাঁট পোশাক কেন ক্ষতিকর?
অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাক ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে এবং বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। এতে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। পাশাপাশি ত্বকের ঘর্ষণ বেড়ে গিয়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই লালচে দাগ, জ্বালাপোড়া ও র‌্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গরমের সময় ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পোশাকের পরিচ্ছন্নতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
গরমে প্রতিদিন ব্যবহৃত পোশাক ধুয়ে পরা জরুরি। ঘামে ভেজা জামাকাপড় দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মাতে পারে। শুধু কাপড় ধুলেই হবে না, তা ভালোভাবে শুকিয়েও নিতে হবে। ভেজা বা আধা-শুকনো কাপড় ব্যবহার করলে নারী ও পুরুষ উভয়ের ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

অন্তর্বাসের যত্নেও প্রয়োজন সতর্কতা
অন্তর্বাস শরীরের সবচেয়ে ঘর্মাক্ত অংশগুলোর সংস্পর্শে থাকে। তাই নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত ঘাম হলে দিনে একাধিকবার অন্তর্বাস পরিবর্তন করাও উপকারী হতে পারে। সুতি কাপড়ের অন্তর্বাস ত্বকের জন্য বেশি আরামদায়ক এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

আরও পড়ুন : ফাইবার না প্রোটিন—সুস্থ থাকতে কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন?

চুলকানি ও র‌্যাশ এড়াতে যা করবেন 
প্রতিদিন অন্তত দুইবার গোসল করুন, ঘাম হলে দ্রুত শরীর মুছে শুকনো রাখুন, সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, ভেজা কাপড় বা অন্তর্বাস দীর্ঘ সময় পরে থাকবেন না, ব্যক্তিগত তোয়ালে ও পোশাক অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না, চুলকানি বা র‌্যাশ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরকে যতটা সম্ভব শুষ্ক ও পরিচ্ছন্ন রাখা। সঠিক পোশাক নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘামজনিত বেশিরভাগ ত্বকের সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।