ফাইবার না প্রোটিন—সুস্থ থাকতে কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন?
সুস্থ দেহের অন্যতম শর্ত পুষ্টিকর খাবার। সুস্থ থাকতে এর বিকল্প নেই। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন, খাদ্যতালিকায় ফাইবার নাকি প্রোটিন বেশি রাখবেন? বিশেষ করে ওজন কমানো, পেশি গঠন বা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে সচেতন মানুষের মধ্যে এ প্রশ্ন বেশ সাধারণ। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ফাইবার ও প্রোটিন দুটিই শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে বেশি গুরুত্ব দিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।
ফাইবার মূলত উদ্ভিজ্জ খাবারে পাওয়া যায়। এটি হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমতে পারে।
অন্যদিকে প্রোটিন শরীরের গঠন ও মেরামতের জন্য অন্যতম উপাদান। শরীরের পেশি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, ত্বক ও বিভিন্ন কোষ তৈরিতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও প্রোটিন প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে পেশির ক্ষয় কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হয়।
ফাইবারের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। পাশাপাশি এটি শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশিশক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন প্রয়োজন। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্যও প্রোটিন উপকারী। কারণ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও প্রোটিন ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: ববি হাজ্জাজ
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি কেজি ওজনের জন্য দৈনিক অন্তত ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। তবে শারীরিক পরিশ্রম, বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এ চাহিদা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে প্রতিদিনের মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ অনুযায়ী পর্যাপ্ত ফাইবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যদিও কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে। আবার হঠাৎ করে বেশি ফাইবার খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় এসব উপাদান বাড়ানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ফাইবারের ভালো উৎসের মধ্যে রয়েছে ওটস, আপেল, নাশপাতি, ব্রকলি, গাজর, শিম, ডাল, ছোলা ও চিয়া বীজ। অন্যদিকে মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, দুধ, দই, টোফু, ডাল, ছোলা ও বাদাম, এগুলো প্রোটিনসমৃদ্ধ।
প্রতিদিনের খাবারে ফাইবার ও প্রোটিন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেজ্ঞরা। সকালে ওটস ও ফলের সঙ্গে দই, দুপুরে মাছ বা মুরগির সঙ্গে শাকসবজি, আর রাতে ডাল ও সবজির সমন্বিত খাবার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। (সূত্র: হেল্থলাইন)