প্রেশারের ওষুধ একবার শুরু করলে কি সারাজীবন খেতে হয়? যা বলছেন চিকিৎসক
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এখন বিশ্বের অন্যতম সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে রোগটির চেয়েও বেশি ভাবায় এর প্রচলিত ধারণা। একবার ব্লাড প্রেশারের ওষুধ শুরু করলে নাকি তা আর বন্ধ করা যায় না। এই ভয়ে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ শুরু করতে দেরি করেন, আবার কেউ কেউ নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ বন্ধও করে দেন। কিন্তু সত্যিই কি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ আজীবন খেতে হয়?
ভারতের বিখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. বিমলেশ পাণ্ডের মতে, এই প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। ওষুধ কতদিন খেতে হবে, তা নির্ভর করে রোগীর উচ্চ রক্তচাপের কারণ, তার শারীরিক অবস্থা এবং সময়ের সঙ্গে রক্তচাপ কতটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এসব বিষয়ের ওপর।
কেন হয় উচ্চ রক্তচাপ?
হাইপারটেনশন সাধারণত বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বংশগত কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতাসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এজন্য চিকিৎসকেরা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। তবে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ মানেই যে রোগীকে সারাজীবন একইভাবে ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে, বিষয়টি এমন নয়।
ডা. পাণ্ডের মতে, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয় এবং জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমে আসতে পারে।
জীবনযাপনের পরিবর্তন কতটা কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত ওজন কমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, ধূমপান ও মদ্যপান না করা, পর্যাপ্ত ঘুমানো ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে করে চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে, তবে সেটি অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।
রক্তচাপ স্বাভাবিক হলে কি ওষুধ বন্ধ করা যায়?
অনেকেই মনে করেন, কয়েক মাস ওষুধ খাওয়ার পর রক্তচাপ স্বাভাবিক দেখালে আর ওষুধের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি ভুল ধারণা। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকার অন্যতম কারণই হতে পারে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া। তাই শুধুমাত্র মাপজোখে রক্তচাপ স্বাভাবিক এসেছে বলে নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিনের বা ক্রনিক হাইপারটেনশন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এতে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্যান্য গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে ওষুধ কমানো বা বন্ধ করার সম্ভাবনা আছে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব চিকিৎসকের। তাই নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ বন্ধ করা বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়। কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ওষুধের প্রয়োজন কমে আসতে পারে। তবে যেকোনো পরিবর্তনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। [সূত্র: এই সময়]