গরুর মাংস কতটুকু খাওয়া নিরাপদ, কী বলছেন পুষ্টিবিদরা
গরুর মাংস নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আবার কেউ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে নিয়মিত রাখেন খাদ্যতালিকায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর মাংস ভালো না খারাপ সেটি মূলত নির্ভর করে পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।
পরিমিত পরিমাণে খেলে গরুর মাংস শরীরকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুষ্টি দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত খেলে বাড়তে পারে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি।
গরুর মাংসের পুষ্টিগুণ
গরুর মাংসে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি১২। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পেশি গঠন, রক্তস্বল্পতা কমানো, হাড় মজবুত রাখা এবং দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে বা যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের জন্য পরিমিত গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ।
প্রতিদিন কতটুকু প্রোটিন দরকার?
পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে যত কেজি ওজন, সাধারণত তত গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ কারও ওজন ৬০ কেজি হলে তার দৈনিক প্রায় ৬০ গ্রাম প্রোটিন দরকার হতে পারে। তবে এই পুরো প্রোটিন শুধু মাংস থেকেই নিতে হবে বিষয়টি এমন না। মাছ, ডিম, ডাল, দুধসহ অন্যান্য খাবার থেকেও শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন পায়। তাই অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
সপ্তাহে কতবার গরুর মাংস খাওয়া ভালো?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন গরুর মাংস খাওয়াই যথেষ্ট। প্রতি বেলায় মাঝারি পরিমাণ মতো ২ থেকে ৩ টুকরার বেশি না খাওয়াই ভালো। বিশেষ করে ঈদের সময় টানা কয়েকদিন অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে হজমের সমস্যা, গ্যাস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
যাদের সতর্ক থাকতে হবে
ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: ফ্রোজেন মাছ-মাংস দ্রুত ডিফ্রস্ট করবেন কীভাবে, জেনে নিন নিরাপদ ৫ উপায়
যেভাবে খেলে ঝুঁকি কমবে
গরুর মাংস কতোটা নিরাপদ সেটা নির্ভর করবে আপনি কোন পদ্ধতিতে সেটা খাচ্ছেন, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলথ জার্নাল থেকে জানা গেছে, গরুর শরীরের ২টি অংশে চর্বির পরিমাণ অনেক কম থাকে। একটি হল গরুর পেছনের রানের উপরে ফোলা অংশের মাংস, যেটাকে রাউন্ড বলা হয়।
আর পেছনের দিকের ওপরের অংশের মাংস, যেটাকে সেরলয়েন বলা হয়। তবে মাংসের বাইরে যে চর্বি লেগে থাকে, সেটা রান্নার আগে কেটে ফেলে দিলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা যায়।
এছাড়া ভুনা না করে পাতলা ঝোল রান্না করা, অতিরিক্ত ঘি ব্যবহার না করা ভালো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর মাংস পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। (সূত্র:বিবিসি)