ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনেই কমতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে হার্ট অ্যাটাকে মারা যায় প্রায় ২ কোটি মানুষ। বর্তমানে এ সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তবে, আন্তর্জাতিক এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন জীবনের খুব ছোট কিছু পরিবর্তনও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম এবং ঘুম এ তিনটি ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতি একসাথে করলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ বছর ইউরোপীয় জার্নাল অফ প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবনযাত্রায় খুব সামান্য পরিবর্তনও হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে কি না, তা নির্ণয় করা।
গবেষণাটি জনসংখ্যাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ, খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের সময়কাল- এ তিনটি উপাদান পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং হৃদরোগজনিত ঝুঁকির সঙ্গে এর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যদি একজন ব্যক্তি নিজের মধ্যে প্রতিদিন খুব সামান্য কিছু পরিবর্তন আনে, তাহলে তার হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে। বিশেষ করে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিনিট অতিরিক্ত শারীরিক ব্যায়াম, ১ থেকে ৪ কাপ অতিরিক্ত সবজি ও প্রতিদিন একজন মানুষের যতটুকু ঘুমানো প্রয়োজন তার থেকে গড়ে প্রায় ১১ মিনিট অতিরিক্ত ঘুম।
আরও পড়ুন: টানা ৩ দফায় কমল সোনার দাম, আজ ভরি কত?
এ তিনটি পরিবর্তন একসাথে করলে ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার ঘটনার ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা দেখা গেছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো এককভাবে নয়, বরং একসাথে মিলিয়ে করলে বেশি কার্যকর ফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, খাদ্য, ব্যায়াম ও ঘুম- এ তিন ক্ষেত্রের ছোট পরিবর্তন একত্রে হৃদ্স্বাস্থ্যের উপর সম্মিলিত প্রভাব ফেলে।
এটি প্রতিরোধের জন্য কঠোর জীবনধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন না-ও হতে পারে। বরং দৈনন্দিন জীবনে খুব ছোট ও ধারাবাহিক পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদে উপকার করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।