২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৫

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে অ্যালার্জির ঝুঁকি

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো/এআই

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যেমন ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ছে, তেমনি এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং বায়ুদূষণের কারণে বাতাসে পরাগরেণুর (পোলেন) পরিমাণ বাড়ছে, দীর্ঘ হচ্ছে অ্যালার্জির মৌসুম ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি ও চোখ জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

বজ্রঝড়ে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাণঘাতী ঝুঁকি:
২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ঘটে যাওয়া 'থান্ডারস্টর্ম অ্যাজমা' ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করে। বজ্রঝড়ের সময় বাতাসে থাকা পরাগরেণু ভেঙে অতিক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে মানুষের শ্বাসনালীতে ঢুকে পড়ে। এতে হঠাৎ করেই হাজার হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা এখনও বিরল হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ায় ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়তে পারে যা বাংলাদেশসহ ঝড়প্রবণ দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা।

কেন বাড়ছে অ্যালার্জি?
আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে অ্যালার্জি বাড়ার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা-

১. দীর্ঘায়িত গরম ও ঋতু পরিবর্তন: শীত শেষ হয়ে গরম দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে গাছপালার পরাগরেণু ছড়ানোর সময়ও বাড়ছে। এতে করে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. বায়ুদূষণ: ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ধুলাবালি ও দূষণের সঙ্গে মিশে পরাগরেণু আরও ক্ষতিকর হয়ে উঠছে, যা সহজেই শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে।

৩. নগরায়ন ও অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ: শহরে অনেক সময় এমন গাছ লাগানো হয়, যেগুলো বেশি পরাগরেণু ছড়ায়। এতে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে।

৪. জলবায়ু পরিবর্তনে উদ্ভিদের আচরণ বদল: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ার ফলে গাছপালা বেশি পরাগরেণু উৎপাদন করছে যা অ্যালার্জির তীব্রতা বাড়াচ্ছে।

কী বলছেন চিকিৎসকরা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালার্জি বা অ্যাজমায় ভোগা রোগীদের এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

করণীয়:
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে এর ঝুঁকি কমানে যেতে পারে-

  • বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার;
  • ধুলাবালি ও দূষণ এড়িয়ে চলা;
  • পোলেন মৌসুমে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া কমানো’
  • শহরে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ;
  • সরকারিভাবে পোলেন পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা ব্যবস্থা চালু।