সিগারেট শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করছে না, ৫ উপসর্গ অবহেলা করলেই বিপদ
ফুসফুসের স্বাভাবিক কোষগুলো হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে ও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন সেখানে টিউমার তৈরি হয়। এই টিউমার ছড়িয়ে পড়ে শরীরের অন্য অংশে গেলে সেটিই ফুসফুস ক্যানসার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিগারেট, বিড়ি ও তামাকজাত দ্রব্য গলা ও মুখগহ্বরেও মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ধূমপানে গলার ক্যানসারও হতে পারে।
গলার ক্যানসারের একটি বড় সমস্যা হলো—এর লক্ষণ অনেক সময় শুরুতে সহজে ধরা পড়ে না। এ ক্ষেত্রে ৫ উপসর্গ অবহেলা করলে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।
লক্ষণগুলো হলো:
১) সর্দিকাশি হলে কফ হয়েই থাকে। তবে দীর্ঘ দিন ধরে কফ ও কাশি হতে থাকলে তা গলায় ক্যানসার হওয়ার উপসর্গ হতেই পারে। এর পাশাপাশি কফের সঙ্গে রক্ত পড়াও হচ্ছে মারাত্মক একটি লক্ষণ।
২) হঠাৎ করেই যদি গলার স্বরের পরিবর্তন হয়ে থাকে, তবে এটি হতে পারে গলার ক্যানসার হওয়ার উপসর্গ।
৩) চোয়াল নাড়াতে সমস্যা হলেও সতর্ক হতে হবে। জিভে ঘা ও ক্ষত ওষুধ ব্যবহারের পরেও না কমলে তা কিন্তু গলায় ক্যানসার হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় জিভ থেকে রক্ত পড়তেও দেখা যায়। সে ব্যাপারেও সচেতন থাকুন।
৪) মুখের ভিতরে ও গলায় অনবরত ব্যথা হলে এবং সেই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। মুখের ভিতরে সাদা দাগ দেখা দিলে এবং সর্দিকাশি না থাকলেও খাবার গিলতে সমস্যা হলে লক্ষণগুলি এড়িয়ে যাবেন না। এই সমস্যাগুলি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৫) নানা কারণে শ্বাস নেওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে উপরের সমস্যাগুলির সঙ্গে যদি দীর্ঘ দিন শ্বাস নেওয়ার সমস্যা হতে থাকে, তবে এটি হতে পারে গলার ক্যানসারের লক্ষণ।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
১) কেবল ধূমপায়ীদেরই নয়, যাঁরা নিয়ম করে মদ্যপান করেন তাঁদেরও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।
২) হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণেও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এ ক্ষেত্রে এইচপিভি টিকা নিয়ে রাখলে মারণ রোগের ঝুঁকি কমবে।
৩) মুখগহ্বরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে খেয়াল না রাখলেও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন।