১৭ বছর পর্যাপ্ত ডাক্তার নিয়োগ হয়নি, তাই স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যখাতে এই বিশাল জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকট কাটাতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগের কাজ চলছে। পাশাপাশি সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিনব্যাপী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল এবং তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে বরখাস্ত এবং চুরির ঘটনায় এক নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
সকালে প্রথমে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে দীর্ঘদিন ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে মেডিকেল অফিসার ডা. শাওলী নানজিবা তন্নিকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি হাসপাতালটির এসি চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট নাইট গার্ডকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে বেলা ২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ওয়াশরুম পরিদর্শনের পাশাপাশি ভর্তি থাকা রোগীদের সাথে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত থাকায় ডা. সোহানা সেলিম নামে আরেক চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বিকেলে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে শিগ্গিরই মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হবে। সেখানে ৭-৮ তলা আধুনিক ভবনে পৃথক প্যারালাইসিস সেন্টার, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া, প্রতিটি জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে খুব শিগ্গিরই সারাদেশে ‘হেলথ কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদা, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।