কেউ শান্তি মিশনে, কেউ সন্ত্রাসীদের হাতে হারিয়েছেন প্রাণ— তাদের নামেই ৫ জাহাজের নাম পরিবর্তন
জাতীয় চার নেতার নামে থাকা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের চারটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। এ ছাড়া জয় বাংলা নামে থাকা কোস্টগার্ডের আরেকটি জাহাজের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কোস্টগার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এদিকে যে চারজন ব্যাক্তির নামে কোস্ট গার্ডের জাহাজের নতুন নামকরণ করা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে জানিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তাদের পরিচয় জানান তিনি।
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করে একটির নাম করণ করা হয়েছে অদম্য বাংলা আর চারটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে করা হয়েছে। জানতে পেরেছি এই চারজনই ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য যারা নিজ জীবন বিপন্ন করে দেশের স্বার্থে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের দুজন নিহত হন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে, একজন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন, আর একজন র্যাবে প্রেষণে থাকা সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন।
জাহাজগুলোর নতুন নাম হয়েছে বিসিজিএস নুরুল ইসলাম, বিসিজিএস ফিরোজ কবির, বিসিজিএস এম. হুমায়ুন কবির ও বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী। তাদের পরিচয় জানান জুলকারনাইন সায়ের।
কঙ্গোয় নিহত নুরুল ইসলাম
কঙ্গোয় নিহত নুরুল ইসলাম লিডিং সিম্যান (সিডি) এম. নুরুল ইসলাম ছিলেন নৌবাহিনীর ডুবুরি ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। কঙ্গো রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট BANBAT-2-এ কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি টহলের সময় মিলিশিয়াদের অতর্কিত হামলায় তিনি নিহত হন। তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতিতে জাতিসংঘ তাঁকে দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক দেয়।
ঝড়ে নিখোঁজ ফিরোজ কবির
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফিরোজ কবির ছিলেন নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা শহীদ ফরিদের অধিনায়ক। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে তার জাহাজ প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে। ক্রুদের সহায়তা করতে গিয়ে তিনি বিশাল ঢেউয়ে ভেসে যান এবং নিখোঁজ হন। তাকে খুঁজে পেতে নৌবাহিনী বড় আকারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু তার মৃতদেহ কখনো পাওয়া যায়নি।
আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন হুমায়ুন কবির
সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার এম. হুমায়ুন কবির প্রেষণে র্যাব-১১-এ উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সালের মার্চে সাভারের আমিনবাজারের কাছে তিনি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় র্যাবের আরেক সদস্যসহ তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।
দক্ষিণ সুদানে নিহত আশরাফ সিদ্দিকী
ইনস্ট্রাক্টর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম. আশরাফ সিদ্দিকী ছিলেন নৌবাহিনীর শিক্ষা শাখার কর্মকর্তা। দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন আনমিসে (UNMISS) তিনি মিলিটারি লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৮ সালের ২৬ জুন ইয়েই শহরের কাছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা চালালে তিনি নিহত হন। ঢাকা সেনানিবাসের চপার্স ডেনে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। পরে তাকে মরণোত্তর দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।