সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম তুলে ধরলেন উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, সক্ষমতা ও সামর্থ্য বিবেচনায় ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভবন এবং শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সহযোগিতা দেবে সরকার।
বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর ‘লিডিং বাই এক্সাম্পল: স্কেলিং রুফটপ সোলার ইন পাবলিক সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। বিরোধী দলের নেতা থাকাকালে তারেক রহমান বারবার দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সৌরশক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সেই পরিকল্পনা জাতীয় নীতিতে প্রতিফলিত করছেন তিনি। ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজের বাসভবনের ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে বহুমুখী করতে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে চায় সরকার।
ছয় মাসে উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ
দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ লক্ষাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারের পরিকল্পনার কথা জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গা চিহ্নিত করে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। প্রথমে অবকাঠামো ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ৫০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টির অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব
সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বেসরকারি খাতকে প্রধান বাস্তবায়নকারী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও পুঁজি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করে অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলবে সরকার। বর্তমানে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। এ নির্ভরতা কমাতে দেশে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ও ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রথম বাজেটেও সৌরশক্তির বিকাশ ও স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের নতুন শিল্পে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতকে উৎপাদন থেকে শুরু করে পুরো সাপ্লাই চেইন ও দক্ষ কর্মিবাহিনী তৈরিতে সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার।
সোলার বিপ্লবে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান
দেশে কাঙ্ক্ষিত ‘সোলার বিপ্লব’ সফল করতে বসতবাড়ি, কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ সব পর্যায়ে সৌরশক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে এ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য বহুমুখী সুযোগ ও বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তন আনতে সরকারের মূল ভূমিকা নীতিগত সহায়তা দেওয়া। তবে এ পরিকল্পনা সফল করতে বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে সৌরশক্তি ব্যবহারে সবাই এগিয়ে এলে জ্বালানি স্বনির্ভরতার লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুল হক, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জফির তুহিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আকিরা মাতসুনাগা এবং সোলারিকের পরিচালক প্রকৌশলী নাজনীন আক্তার।