২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩২

প্রতারণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, তিন উপসচিবকে ওএসডি

তোফাজ্জল হোসেন, রকিবুর রহমান খান ও নাহিদা বারিক  © টিডিসি সম্পাদিত

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে তিন উপসচিবকে (ওএসডি) করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তারা ২৯তম বিসিএসে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেছিলেন। গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ওএসডি হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক।

সরকারি নথিতে তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেলেও দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস পরীক্ষার সময় তাদের কেউই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেননি। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সময় জমা দেওয়া সনদ ও কোটার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এ ব্যবস্থা নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৯তম বিসিএসে নিয়োগের প্রথম গেজেট হয় ২০১১ সালের ১০ জুলাই। তখন প্রশাসন ক্যাডারে ১৮৪ জনের নামে গেজেট হয়। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ায় ১৪টি পদ ফাঁকা ছিল। প্রথম গেজেটের ১৩ মাস পর ওএসডি হওয়া এই তিন কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজনের নামে গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পরে গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় আবেদন না করেও ২৯তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক আলাদা ছয়টি মামলা করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়।

ওই চিঠি দেওয়ার ছয় মাস পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিনজনে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল। বাকি তিনজন পুলিশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।