২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৯

‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্যে বিতর্ক জেরে আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন, নতুন আলোচনায় যারা

পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে আলোচনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা  © টিডিসি সম্পাদিত

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ ঘটনায় রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠন এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে তাকে অপসারণের দাবি উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এ পদে সম্ভাব্য নতুন আইজিপি হিসেবে কয়েকজন কর্মকর্তার নামও আলোচনায় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সে ক্ষেত্রে পুলিশের শীর্ষ পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, আইজিপি পদে নিয়োগের জন্য সম্ভাব্য তিন কর্মকর্তার একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ফাইলও প্রস্তুত রয়েছে। তবে বর্তমান আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তবেই ওই তালিকা থেকে কাউকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ক্রসফায়ার ও সাংবাদিকদের নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি পরবর্তী সময়ে তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বক্তব্যটি ভুলভাবে যোগাযোগ হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা করা উচিত নয় বলে মনে করেন উপদেষ্টা। তবে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাপারে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে নতুন আইজিপি হওয়ার আলোচনায় থাকা তিন কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ।

এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে কিছু বিতর্কের কারণে তারা সম্ভাব্য তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে দাবি করেছে সূত্রটি।

এর আগে, ২৬ অক্টোবর পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না।’

একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়। আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

তার ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য রাজনৈতিক মহল, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। বক্তব্যের পর পুলিশপ্রধানকে অপসারণের দাবিও ওঠে।

তবে ওই দিন রাতেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। সেখানে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে তিনি শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন।

এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আইজিপি অসাবধানতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন।