ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেনের উদ্বোধন রেলমন্ত্রীর, ভাড়া কত-শিডিউল কখন
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’-এর যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বর্ধিত রুটে ট্রেনটির চলাচল উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ-পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নতুন এই সার্ভিস চালুর ফলে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে তিন জোড়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে মহানগর এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া ৬৮৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত। ট্রেনটি ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার বা সাধারণ আসনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৫ টাকা। স্নিগ্ধা, এসি চেয়ার ও অন্যান্য আসনশ্রেণির ভাড়া সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ২৪০ টাকা এবং এসি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ভাড়া ৫৪৭ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, ‘Rail Sheba’ মোবাইল অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে আসনশ্রেণি অনুযায়ী টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
সোমবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত রুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৪৬৭ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে মহানগর এক্সপ্রেস চলাচল করবে। ঢাকা ও কক্সবাজার প্রান্তিক স্টেশন ছাড়াও যাত্রাপথে নির্ধারিত বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম। নতুন সার্ভিস চালুর ফলে ট্রেনটির কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরদিন সকাল ৬টায় ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছাবে। অন্যদিকে, ফিরতি পথে কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। দুই দিকেই যাত্রার মোট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
ট্রেনটির রেক বেইজ, পানি সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ কক্সবাজারে করা হবে। মহানগর এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে প্রতি রোববার। ট্রেনটিতে আসনসংখ্যা থাকবে ৭৩৬ অথবা ৭০৬টি। ভাড়ার ক্ষেত্রে আগে থেকে নির্ধারিত হার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ নামে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে রেলপথে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের চাহিদা বাড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর মাধ্যমে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে তিন জোড়া হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আন্তনগর রেলসেবা বাড়ানোর নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যেসব এলাকার যাত্রীরা এতদিন বিরতিহীন ট্রেনের কারণে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুবিধা পেতেন না, তাঁদের জন্য নতুন এই সার্ভিস যাতায়াত সহজ করবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।