২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৬

পতিত স্বৈরাচার এবং বিরোধী দল এক হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান    © সংগৃহীত

পতিত স্বৈরাচার এবং বিরোধী দল এক হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে দেশবাসীকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলি, করব কাজ করব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।’ যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল কারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।’ এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই, পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে যে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতগুলা লোক আছে একটি দল আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হবার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাবো আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোন বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, যাতে করে বাংলাদেশের যে অর্থনীতি মানুষের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীদের ১২ কোটি প্রণোদনা অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। আখচাষীদের প্রণোদনার অর্থ প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে  সংশ্লিষ্ট চাষীদের মোবাইল একাউন্টে প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষীকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা ছিলেন।
দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে  সামরিক বিমানে শাহ মখদুম বিমান বন্দরে নেমে সরাসারি জনসভা স্থলে আসেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রংপুর যান সেখানে ধর্মসভা মন্দিরে পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে সরাসরি শাহ মখদুম বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রী বেকার সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন বন্ধ কলকারখানা খুলতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, ‘রাজশাহী জেলা যেখানে বিএনপি ১২ তারিখে নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে আমরা অনেকগুলো বন্ধ মিল কারখানা বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের ডেকে নিয়ে এসেছি, তাদেরকে উৎসাহিত করেছি এবং ধীরে ধীরে আমরা এর মধ্যে কয়টি হচ্ছে। গত সাত মাসে মুক্তাদিন এর মধ্যে আমার ছয়টা বন্ধ মিল কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরকে যাতে তারা মিল কারখানাকে চালু করতে পারে এবং চালু করার একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো আমার শ্রমিক ভাইরা যাতে বেকার না থাকে শ্রমিক ভাইদের যাতে আবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় এই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। আগামী ১২ মাসে অর্থাৎ আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু করে ডিসেম্বরে মধ্যে মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে আরো প্রায় ইনশআল্লাহ ৪৬ টির মত বন্ধকল কারখানা আমরা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যাতে করে আমার দেশের শ্রমিক ভাইরা বেকার না থাকে, আমার দেশের শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে কাজ করে তারা টিকে থাকতে পারে কাজ করে যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে সেজন্যই আমরা বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই জনসভায় ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।