১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০১

সচিবালয় স্থানান্তর করতে আজ মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

সচিবালয়   © টিডিসি ছবি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে। বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট, গাড়ি পার্কিংয়ের সমস্যা এবং পুরোনো ভবনের নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নতুন স্থানে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে স্থানান্তরের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৪টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।

রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এ কারণে সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে। মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিলে স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে অতীতে একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুসারে নীতিগত কাজ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, বর্তমান সচিবালয়ে প্রায়ই গাড়ি পার্কিং ও জায়গার সংকটের কারণে জটিলতা তৈরি হয়। অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখতে হচ্ছে। এ ছাড়া সচিবালয়ের অধিকাংশ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে ভবনগুলোর মেরামত এবং স্থায়ী বিকল্প খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের নতুন স্থানে পুরোপুরি স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রাথমিক এবং মূল কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হলে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।