একটা প্রজন্ম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে—সেলিনা রহমান এমপি
একটা প্রজন্ম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে—ধ্বংস মানে তাদের যে মানবিক মূল্যবোধ, সেটা কিন্তু আর নাই। সেইটা (মানবিক মূল্যবোধ) নাই, যে কারণে আজকে দেখবেন সমাজে এত সহিংসতা, এত মারামারি, এত কাটাকাটি — বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিনা রহমান এমপি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
সংসদ সদস্য সেলিনা রহমান বলেন, ‘আমাদের অবহেলার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেমন বলছেন, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে, প্রতিটি উপজেলার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সবকিছু গড়ে তুলতে হবে। তেমনই তিনি আরেকটা বিষয় গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটা হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যে আজকে আমরা মাদকের কথা বলছি। এত মাদক! আজকে আপনি গ্রামেগঞ্জে যেখানে যান, ছোট ছোট স্কুল-কলেজের বাচ্চারা মাদক খেয়ে বসে থাকে। তারা এখন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কেন? কারণ, এই বাচ্চাদের কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল না। এই বাচ্চারা, তারা কোনো সুষ্ঠু শিক্ষা পায়নি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিনা রহমান এমপি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পড়াশোনা নাই, ছিল শুধু পাস করিয়ে দেওয়া। এটা কিন্তু চলেছে গত ১৭ বছরে। এ কারণে একটা প্রজন্ম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে—ধ্বংস মানে তাদের যে মানবিক মূল্যবোধ, সেটা কিন্তু আর নাই। সেইটা (মানবিক মূল্যবোধ) নাই, যে কারণে আজকে দেখবেন সমাজে এত সহিংসতা, এত মারামারি, এত কাটাকাটি।
শিশুদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য সেলিনা রহমান বলেন, ‘এই যে শিশু সপ্তাহ, কন্যাশিশু সপ্তাহ—এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য কিন্তু বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজকে ঠিক করার ব্যবস্থা করা। আজকে যদি ছোটবেলা থেকে শিক্ষা পায়—তার মানবিক যে বোধ, যেটা মা দিয়ে থাকে। তাই সেই মাকে কিন্তু আমাদের সচেতন করতে হবে। তারপর সেই মা তার শিশুকে বিভিন্ন শিক্ষা দিয়ে বড় করে তুলতে পারে। কিন্তু আমরা সেটা পারিনি। বর্তমান সরকার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’
বাউফল উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল আলম তালুকদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুধীসমাজের ব্যক্তিবর্গ।