বিমানবন্দরে যাত্রীদের কষ্ট লাঘব নিয়ে বিশেষ উদ্যোগের কথা জানালেন সেই ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’
সম্প্রতি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ ও এক কর্মকর্তাকে হেনস্তার ঘটনায় জামায়াত নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান আলোচনায় আসলে ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদের নাম আলোচনায় আসেন।
আগের মতো বেশ অনেক দিন ধরে তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা না যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠেছে ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ এখন কোথায়। তাকে ট্রান্সফার করা হয়েছে বলেও অনেক তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুক ও ইউটিউবে। তবে, তিনি এখনও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, বিমানবন্দরে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লেই ছুটে যেতে দেখা যেত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খানকে। যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি কিংবা বিমানবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান দ্রুতই তাকে পরিচিত করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে তিনি পান ‘ফাটাকেষ্ট’ নাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তার পদবি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব)। চাকরি করছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অধীনে।
বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার সমস্যা কমানো, যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব এবং অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান বিমানবন্দরের আলোচিত এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
স্ট্যাটাসে কে এম আবু নওশাদ লিখেছেন, ‘বিমানবন্দরে আগের চেয়ে ভালো সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিম এয়ারপোর্টের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যাত্রীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ট্রলি ও লাগেজ সমস্যা কমাতে চেষ্টা করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণ ও অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে নওশাদ খান লিখেছেন, ‘আমাদের মনিটরিং এবং তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত অপরাধ প্রতিরোধ ও যাত্রী অধিকার সংরক্ষণে সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করি।’
উন্নত বিশ্বের বিমানবন্দরগুলোতে প্রচলিত কিছু সেবা বাংলাদেশেও চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। তার প্রত্যাশা, শিগগির দেশের যাত্রীরাও এমন কিছু উন্নত সেবা পাবেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে দেশের মানুষের কল্যাণ কামনা করে এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লেখেন, ‘ভালো থাকুক বাংলাদেশের মানুষ, ভালো থাকুক আমাদের বাংলাদেশ।’