স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন
বাংলাদেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দেশের স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক ও বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করতে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক স্থাপত্য শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার স্থাপত্যের গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের স্থপতিরা যেন বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক স্থাপত্য ও নকশার প্রকল্পে কাজ করতে পারেন, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে মেধার ঘাটতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ। আইএবি, ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট অ্যাক্রেডিটেশন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশের স্থাপত্য ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব। সম্মেলনে ‘ক্যানবেরা অ্যাকর্ড’-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান।
স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত গ্রন্থাগার ও স্টুডিও সুবিধা, প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, শিক্ষকদের দক্ষতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য শিক্ষার বাজেট বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, স্থাপত্য শুধু ভবন নির্মাণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয় জড়িত। তাই বৈশ্বিক মানদণ্ড গ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব স্থাপত্য ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামো খাতে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি খাত প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাতকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্থপতিদের সক্ষমতা তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
দেশে প্রায় সাত হাজার গ্র্যাজুয়েট স্থপতি রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ স্থপতিদের দক্ষতা ও মেধাকে আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে আধুনিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।