১৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে দিকে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীকে এই প্রকল্পের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনর্খনন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ বা পুনর্বাসন করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহমেদ বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যায়নি। প্রথম পর্যায়ের পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মাণ, বাঁধের প্রতিরক্ষা ও নদী খননসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে। প্রকল্পটি ছয় থেকে সাতটি সেকশনে ভাগ করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পাউবো সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন কমানো এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামো রক্ষার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ফেনীর উত্তরাঞ্চলে বর্ষা ও উজানের ঢলে মুহুরী-কহুয়া নদীর পানি বেড়ে প্রায় প্রতি বছরই বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে পরশুরাম, ফুলগাজীসহ নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁধ সংস্কার ও নদী পুনর্খননের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সমাধানের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের।
এর আগে গত ১৬ জুন অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের কর্মসূচিতে প্রকল্পটির উদ্বোধন কর্মসূচি রাখা হয়।
অন্যদিকে পরশুরামে এই প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।