২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৮

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।  © টিডিসি ফটো

পেশাদার সাংবাদিকদের কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ডিআরইউর বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

সভায় ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সাংবাদিকদের পেশাগত ও কল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিআরইউর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া ২ হাজার সাংবাদিকের বৃহৎ সংগঠন ডিআরইউর নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা অবহিত করা হলে সহায়তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।  

সরকার সাংবাদিকতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকে নামে-বেনামে ফেসবুক পেজ খুলে, ভুঁইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল করে নানা গুজব ছড়াচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূলধারার গণমাধ্যমে নয়, অনেকে হাতে একটি মোবাইল নিয়েই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানা কিছু সামাজিকমাধ্যমে ছড়াচ্ছে। এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সাংবাদিক কারা—তার সংজ্ঞা ও মাপকাঠি সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেই ঠিক করতে হবে। বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় নির্ধারণে একটি গ্রহণযোগ্য মাপকাঠি থাকা প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয় ও আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা, নতুন নীতিমালা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও এ ধরনের মাপকাঠি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার আন্তারিক জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটা করা যায়, সেই দিকে আমরা নজর দিচ্ছি। এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করবেন তিনি।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো দেখার দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। আমরা সাংবাদিকদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকারকেও সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা বাড়াতে হবে। সাংবাদিকরা এই সরকারকে গণমাধ্যমবান্ধব হিসেবে দেখতে চায়। সেই কাজটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ডিআরইউ সাংবাদিকদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। ২ হাজার পেশাদার সাংবাদিকের সংগঠন হিসেবে সাংবাদিকদের কল্যাণ ও মানোন্নয়নে কাজ করছে। বছরব্যাপী শতাধিক কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে ডিআরইউ। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার যেন না হয় সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ডিআরইউ সহসভাপতি মেহেদি আজাদ মাসুম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আখতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল আমিন আজাদ ও আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।