২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯

যারাই জড়িত হোক, আইনের আওতায় আসবেন—সালমানের স্টুডিও ভাঙচুর ইস্যুতে তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ব্রিফিং করছেন  © সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর মানুষের ওপর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। রাষ্ট্র বা সরকারের কাজ হচ্ছে অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা করা। কিন্তু কোনো অপরাধ ঘটে গেলে নিশ্চিত করা যে, এর ন্যায়বিচার হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপরাধ না ঘটে।’

তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি এখানেই থেমে থাকবে না। তদন্ত হবে। তদন্ত করতে গিয়ে যদি দেখা যায়, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত—যদি কেউ জড়িত থাকে—তাহলে তাকেও অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে আমরা সহানুভূতি রেখে কথা বলি, কারণ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ঘটনার শিকার হয়েছেন। আমরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু সেই অবস্থায় তিনি যেভাবে বিষয়টি বলেছেন। বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা প্রকাশ্যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসটি এখনো রয়েছে। আমি সেটি যাচাই করে এসেছি। সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করে সরকার ও দলকে দায়ী করা হয়েছিল। অথচ পরবর্তীতে এমন তথ্য এসেছে, যার ফলে বিষয়টি ভিন্নভাবে সামনে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের সহিংসতাকে সরকার সাফাই গাইছে না। এ ধরনের ঘটনা হওয়া উচিত ছিল না। এটি ঠেকাতে পারা উচিত ছিল। এখন সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে দ্রুত তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা। আপনারা দেখছেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।’

‘কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রথমে একটি বক্তব্য দেওয়া হলো, পরে সেখান থেকে সরে আসা হলো এবং সালমান মুক্তাদির নিজেও স্বীকার করলেন যে, বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। শুধু তার স্থাপনাই নয়, আরও স্থাপনায় ভাঙচুর হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। অথচ বিরোধীদলীয় নেতার ফেসবুকে দেওয়া আগের স্ট্যাটাসটি এখনো রয়ে গেছে’, যোগ করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘শুধু তিনিই নন, এনসিপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপিকে নয়, বিএনপির প্রধান এবং সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। সেগুলোও সরানো হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘গতকালও আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল এটি। খেয়াল করবেন, আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্যের সঙ্গেও অপতথ্যের বিষয়টি জড়িত। অপতথ্য এখন সারা পৃথিবীতেই একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করি, সালমান মুক্তাদিরের মতো যেসব মানুষের প্রচুর রিচ ও ভয়েস ট্র্যাকশন রয়েছে, তারা এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতের কথা বলছি। জনগণকে সচেতন করা এবং এ ধরনের বিষয়কে আইনি পরিসরের মধ্যে আনার জন্য কাজ করা প্রয়োজন। আপনারা জানেন, সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে। আমরা আশা করি, এই আইনি পরিসরের মধ্যেই এ ধরনের বিষয় মোকাবিলা করা যাবে।’

আরও খবর: ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ, জন্মতারিখ ভুল—তবুও নিয়োগ, সরকারের গচ্চা সাড়ে ৩ কোটি

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা কারা, তাদের কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা আছে কি না। যারা তাদের পাঠিয়েছিল, তাদের বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে সেটি পরিষ্কার হবে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্যও আসছে। সরকার আগের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেবে, নাকি বিএনপির কেউ এতে যুক্ত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে—সেটি তদন্তেই পরিষ্কার হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রে যেকোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, তার স্থাপনা ভাঙা হলে, তিনি আক্রমণের শিকার হলে—এমনকি তিনি কোনো অপরাধীও হয়ে থাকলে—যদি তার ওপর এ ধরনের ঘটনা ঘটে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার দুঃখিত এবং অবশ্যই বিব্রত। কারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।’

‘আমি ‘বিব্রত’ বলছি এ অর্থে যে, এখন ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা ভাঙচুর করেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আপনারা বলছেন, বিভিন্ন সংবাদেও আসছে, এর সঙ্গে কোথাও পুলিশের অবহেলা ছিল কি না বা ক্ষমতাসীন দলের কেউ এতে জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে আসতে পারে’, যোগ করেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা এই কাজ করেছেন, তাদের বিষয়ে যখন তদন্ত হবে, তদন্তে যদি কারও নাম আসে বা কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’