২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২১

‘বিএনপির হরতালে উন্নয়ন ব্যাহত হয়’ বক্তব্য দেওয়া সেই কৃষক সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতির সাথে

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ  © সংগৃহীত

সিদ্দিকুর রহমান ওরফে ময়েজ উদ্দিন। যিনি ‘কুল ময়েজ’ হিসেবে বেশ পরিচিত। বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি। স্বশিক্ষিত এই চাষি ২০১০ সালে পান বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার ময়েজ উদ্দিনকে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ দেয়। পরে ঋণখেলাপির মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। সেই কুল ময়েজের নেতৃত্বে একদল কৃষক নেতা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে সমিতির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল (লিচু কিতাব), মো. হাসান আলী (ড্রাগন হাসান), মোছা. বেলী বেগম (সবজি বেলী), মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার (মাছ তালেব), মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।

ময়েজ উদ্দিন যে বছর পদক পান, সেই বছর তার খামার দেখতে গিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের তখনকার স্পিকার ও পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ময়েজ উদ্দিনের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়। ওই উপজেলায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত আবদুল জলিল ওরফে কিতাব মণ্ডল, যিনি ‘লিচু কিতাব’ নামে পরিচিত। তিনিও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে।

এ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকদের। পাবনা জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা অভিযোগ করেন, ময়েজ উদ্দিন প্রভাবশালী কৃষক। তিনি পটপরিবর্তনের পরে বিএনপি সাজছেন। কিন্তু আগে ছিলেন আওয়ামী লীগ। ফ্যাসিস্টদের কাছ থেকে ব্যাপক সুবিধা নিয়েছেন তিনি।

তারা বলেন, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিএনপির হরতাল ও অবরোধের কারণে ময়েজ উদ্দিন উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পাননি এবং তার ফসল উৎপাদন ভালো হয়নি, এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে দিয়েছিলেন। এতদিন তিনি আওয়ামী লীগের পারপাস সার্ভ করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুল ময়েজ বলেন, আমি সবার কৃষক। কোনো দলের না। আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না। আমার পিছনে সব সময় কিছু লোক লেগে থাকে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি এসব দেখি না।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন ও কৃষকদের জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্য বীমা চালু, জেলা-উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষা ও কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ সংক্রান্ত ১৮ দফা দাবি-দাওয়া পেশ করেন।