২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪

বিশ্বমঞ্চে জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমান  © সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণের শুরুতেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদেরও স্মরণ করেন।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার কিছু পর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তার প্রায় ১৭ মিনিটের বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, অর্থনীতি, তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসে।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।’

এর আগে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান তারেক রহমান। দায়িত্ব পালনে তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবককে তার নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস’, বলেন তারেক রহমান।

ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলেন।

তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরিতে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এ ছাড়া ভাষণে বিশ্বজুড়ে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।