২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১

নন-ক্যাডাররা স্বেচ্ছায় পদোন্নতি বর্জনে অসদাচরণের শাস্তি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়  © সংগৃহীত

নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পদোন্নতির যোগ্য হওয়ার পরও স্বেচ্ছায় পদোন্নতি না নিলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অসদাচরণের জন্য সরকারি চাকরি আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এমন বিধান রেখে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালার নতুন খসড়া তৈরি করছে সরকার।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের (এসিআর) গড় নম্বরের ভিত্তিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিগত পাঁচ বছর অথবা ফিডার পদে চাকরিকালের মধ্যে যেটি কম, সেই সময়ের ন্যূনতম গড় নম্বর ৮০ থাকতে হবে। গড় নম্বর ৬৯-এর নিচে থাকলে তা বিরূপ মন্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। তবে অবসরোত্তর ছুটি ভোগরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি পাবেন না।

পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়া যাবে। তবে লিয়েন বা চলতি দায়িত্বের কারণে সৃষ্ট শূন্য পদে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, সব নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ক্ষেত্রে এর বিধান প্রাধান্য পাবে। পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগে নিয়োগপ্রাপ্তরা পরে একই পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর জ্যেষ্ঠতা পাবেন।

খসড়া বিধিমালায় পদোন্নতি না নেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের অসদাচরণের লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কার, পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ এবং মূল বেতনস্কেলের নিম্নতর কোনো ধাপে অবনমিতকরণের বিধান রয়েছে। গুরুদণ্ড হিসেবে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং সরকারি চাকরি থেকে অপসারণের বিধান রাখা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মো. মোস্তফা জামান বলেন, সরকার ক্যাডার ও নন-ক্যাডার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। এখনো কাজ চলছে, তবে একটা খসড়া তৈরি করে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

নতুন বিধিমালায় কী ধরনের পরিবর্তন আসছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কিছু নতুন বিধি সংযোজন হবেই। যেহেতু এখনো চূড়ান্ত করিনি, সেকারণে বলতে পারছি না। কী থাকবে আর কী থাকবে না কাজ শেষ হলে বলা যাবে কী কী বিধান নতুন সংযোজন হয়েছে।