১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৮

জুনে ১২৫০০ বেতনধারীদের বেতন জুলাইতে কত হচ্ছে, বাকি গ্রেডগুলোয় কত বাড়ছে?

নবম জাতীয় পে স্কেল  © টিডিসি সম্পাদিত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, জুনে যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১২ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন, জুলাই থেকে তাদের বেতনসহ অন্যান্য গ্রেডে কীভাবে মূল বেতন নির্ধারণ হবে, তার পদ্ধতিও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোতে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। যা গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

প্রজ্ঞাপনে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এ বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যে কর্মচারী বর্তমান বেতনস্কেলে পদের মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা নিম্ন কোনো গ্রেড বা স্কেল, যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, পাচ্ছিলেন, তার বেতন বর্তমান বেতনস্কেলের অনুরূপ জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এর অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন আহরণকারী কোনো কর্মচারীর বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া কোনো কর্মচারীর মূল বেতন বর্তমান বেতনস্কেলের সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হলে প্রথমে উভয় ধাপের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে। এরপর নির্ণীত পার্থক্য অনুরূপ স্কেলের অর্থাৎ জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এর প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

এই যোগফল যদি অনুরূপ স্কেলের কোনো ধাপের সমান হয়, তাহলে ওই ধাপেই বেতন নির্ধারণ করতে হবে। আর অনুরূপ স্কেলে ওই অঙ্কের সমান কোনো ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণ ১: ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে একজন কর্মচারী ৯৩০০-৯৭৭০-১০২৬০-১০৭৬০-১১৩২০-১১৮৯০-১২৪৯০-১৩১২০-১৩৭৬০-১৪৪৭০-১৫২০০-১৫৯৬০-১৬৭৬০-১৭৬০০-১৮৪৮০-

১৯৪১০-২০৩৯০-২১৪১০-২২৪৯০ টাকার বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ৯৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন।

এই ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে ওই স্কেলের অনুরূপ স্কেল হিসেবে ২২০০০-২৩১০০-২৪৩০০-২৫৬০০-২৬৯০০-২৮৩০০-২৯৮০০-৩১৪০০-৩৩০০০-৩৪৭০০-৩৬৫০০-৩৮৪০০-৪০৪০০-

৪২৪০০-৪৪৬০০-৪৭১০০-৪৯৫০০-৫২১০০ টাকার অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ২২০০০ টাকায় তার মূল বেতন নির্ধারিত হবে।

উদাহরণ ২: ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে একজন কর্মচারীর মূল বেতন ১২৫০০-১৩১৩০-১৩৭৫০-১৪৪৮০-১৫২১০-১৫৯৬০-১৬৭৬০-১৭৬০০-১৮৪৫০-১৯৪০০০-২০৪২০-২১৪৫০-২২৫৩০-২৩৬৬০-

২৪৮৫০-২৬১০০-২৭৪১০-২৮৭৫০-৩০২৩০ টাকার বর্তমান বেতনস্কেলে ১৩৭৫০ টাকা।

এই ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে বর্তমান বেতনস্কেলের অনুরূপ স্কেল হিসেবে ২৫০০০-২৬৩০০-২৭৬০০-২৯০০০-৩০৪০০-৩২০০০-৩৩৬০০-৩৫২০০-৩৭০০০-৩৮৮০০-৪০৮০০-৪২৮০০-৪৪৯০০-

৪৭২০০-৪৯০০০-৫২০০০-৫৪৬০০-৫৭৩০০-৬০৫০০ টাকার স্কেলে তার বেতন নির্ধারিত হবে ২৬৩০০ টাকা।

প্রজ্ঞাপনে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বর্তমান বেতনস্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন থেকে একই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের বেতন বিয়োগ করলে পার্থক্যের পরিমাণ হয় ১৩৭৫০-১২৫০০ = ১২৫০ টাকা। অতএব, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এর প্রারম্ভিক ধাপ + ১২৫০ টাকা অর্থাৎ (২৫০০০+১২৫০) = ২৬২৫০ টাকায় বেতন নির্ধারিত হবে। কিন্তু অনুরূপ স্কেলে এইরূপ ধাপ না থাকায় পরবর্তী উচ্চতর ধাপে অর্থাৎ ২৬৩০০ টাকায় তার বেতন নির্ধারিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব কর্মচারীর বেতন অনুচ্ছেদ ৩(২)-এর অধীন ১৭২০০০ টাকা ও ১৬৪০০০ টাকা এবং অনুচ্ছেদ ৩(১)-এর অধীন ১৫৬০০০ টাকায় নির্ধারিত, তাদের ক্ষেত্রে দফা (ক) ও (খ) প্রযোজ্য হবে না।

১ জুলাই ২০১৫ তারিখে কোনো কর্মচারী উচ্চতর বেতনস্কেলের পদে পদোন্নতি পেলে তার বেতন প্রথমে নিম্নপদে নির্ধারণ করে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কর্মচারী প্রেষণে কর্মরত থাকলে, প্রেষণে কর্মরত না থাকলে তাঁর মূল অফিসে অথবা প্রতিষ্ঠানে তিনি যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই ভিত্তিতে তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

এ ছাড়া ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে কোনো কর্মচারী ছুটিতে থাকলে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এ সেই কর্মচারীর বেতন তাঁর বর্তমান বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। অথবা উক্ত তারিখে তিনি ছুটিতে না থাকলে তাঁর বর্তমান বেতন যা হতো, সেই ভিত্তিতে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এ তাঁর বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

তবে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এ তার বেতন নির্ধারণের ফলে তিনি যে আর্থিক সুবিধা লাভ করতেন, তা তার ছুটির সময়ের জন্য প্রাপ্য হবেন না। ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে কোনো কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকলে, সে কর্মচারী পুনর্বহাল না হলে এবং বাস্তবে কাজে যোগদান না করলে তার বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এ নির্ধারণ করা হবে না।

এ ধরনের পুনর্বহালকৃত কর্মচারীর বেতন ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে প্রথমত বর্তমান বেতনস্কেলে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে তাঁর বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকলে শুধু পেনশন নির্ধারণের জন্য তাঁর বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে নির্ধারণ করতে হবে।