১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯

সর্বজনীন পেনশনে যুক্ত হচ্ছে ৬ নতুন সুবিধা, টাকা তোলা যাবে ৫৫ বছরেই

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ  © সংগৃহীত

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নতুন ছয়টি সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর বিশেষ পরিস্থিতিতে টাকা তোলার সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন এবং ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাবও করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পর্ষদ অনুমোদন দিলে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সমতা স্কিমে নিবন্ধিত ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জনের জমা ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাস স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন, যাদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এ স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭ জন দেখানো হয়েছে।

পেনশনে যুক্ত হচ্ছে যে ৬ নতুন সুবিধা

প্রথমত, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিকভাবে অক্ষম হলে বিশেষ বিবেচনায় জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে একবার স্কিমে যুক্ত হলে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

দ্বিতীয়ত, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে পেনশনভোগী ৭৫ বছর বয়সের আগে মারা গেলে নমিনি শুধু ৭৫ বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পান।

তৃতীয়ত, পেনশন শুরুর বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। এর আগে ৬০ বছর বয়সে জমা অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

চতুর্থত, সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় আগ্রহী নন এমন গ্রাহকদের জন্য ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। পঞ্চমত, গ্রাহকদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ষষ্ঠত, গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হার পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবগুলো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করবে, সে অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কার্যক্রম চালু করব।’