দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত, সহায়তা দেবে দুদক
দুর্নীতি কমিয়ে আনতে দেশের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি সহযোগিতা দেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সচিব সভায় গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর) এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন দুদক সচিব।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি দুদক সচিবকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাতে বলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সভায় অন্তত ৬১ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় সভা শুরু হয়।
বৈঠকে উপস্থিত অন্তত দুজন সচিব দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তাদের একজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি সেবা ও প্রশাসনে দুর্নীতির বিষয়ে জনগণের যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। নতুন সরকারের আমলে জনসেবাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বাস্তবতা স্বীকার করে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে আমরা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছি।’
আরেক সচিব গণমাধ্যমকে জানান, দুদকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সরকারের কাছে এই সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুদক সচিব গতকালের সচিব সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।
এদিকে, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম গত রবিবার তার নির্বাচনী এলাকায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। তারা নানা ধরনের ঘুষখোরি ও লুটপাট করে; যার ফলে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’
স্পিকারের এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। সচিব সভাতেও বিষয়টি উঠে আসে। রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তির প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে কেউ কেউ বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দেন।
সভায় এক জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘আমলাদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখা উচিত।’
এ ছাড়া সভায় সরকারের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে সচিবদের তাগিদ দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুন: সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফেরত দিতে হবে ১১৬ কোটি টাকা
মন্ত্রিপরিষদের সচিব ড. নাসিমুল গনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত ও নিরপেক্ষ থাকে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রশাসনের প্রায় ২০ লাখ রাজস্ব পদের মধ্যে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে।
সভায় চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরে দ্রুত সোলার প্যানেল স্থাপনের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সবচেয়ে বেশি সময় আলোচনা হয়।
পাশাপাশি সরকারি ক্রয়নীতি (পিপিআর) অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে সব কেনাকাটা সম্পন্ন করতে সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রয়-সংক্রান্ত নথিও আগেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সব সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।