সংসদ অধিবেশন না থাকায় এখনও সুযোগ দেখছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখতে চায় না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অবস্থানও একই। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শিক্ষকদের সুযোগ দাবি জানিয়ে আসছে। শিক্ষকদের রাখলে জবাবদিহি বাড়বে দাবি করে এবং সংসদ অধিবেশন না থাকায় তাদের একাংশও এখনও নির্বাচনে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষক ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করে আইন সংশোধরেন প্রস্তাব করেছে ইসি। তবে এর বিরোধিতা করে জামায়াত বলছে, এমপিও শিক্ষকদের ভোটে লড়ার সুযোগ দিতে হবে। আর সরকার বলছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
এর মধ্যেই আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ মাসেই হবে তফসিল ঘোষণা। এখন সংসদ অধিবেশনও নেই। ফলে আইন পরবর্তনের আপাতত সুযোগ না থাকলেও অধ্যাদেশ জারির সুযোগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থিতা হওয়ার সুযোগ আছে দাবি করে শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে জবাবদিহি বাড়বে। তারা জনপ্রতিনিধি হলে অনিয়মের হার কমে আসবে। মানুষের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সম্পৃক্ততাও রয়েছে।
রাজধানীর একটি কলেজের এমপিওভুক্ত প্রভাষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে রাখা যায়। কারণ জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তারা মানুষের কাছাকাছি থেকে তাদের সমস্যাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারেন। স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রকল্প বাস্তবায়নও করতে পারবেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ অসম্ভব। সেক্ষেত্রে তাদের একইসঙ্গে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে ভোট।
নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনে ইসির সুপারিশের সঙ্গে একমত বিশ্লেষকরাও। তাদের দাবি, প্রভাবমুক্ত ভোট করতে শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না দেয়াই কাম্য। তাদের মতে, একইসঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে, যা সহিংসতা উসকে দিতে পারে।
গত রবিবার এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সরকার আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রে বা পরিষদে বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সর্বজনীন পদে অধিষ্ঠিত থাকলে অযোগ্য হবেন তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনের বাইরে রাখার চিন্তাভাবনা করছে কমিশন। তারা প্রার্থী হলে তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১৮ খাতে অনিয়ম, সরকারের ক্ষতি ২ হাজার ৩১ কোটি টাকা
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন সংশোধনের সুপারিশ রাখা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা ভোটে অংশ নিলে, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবেও থাকলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলে এটা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষ, সুন্দরভাবে, সুষ্ঠুভাবে, বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচন শেষ করা। শিক্ষকরা যেন বিতর্কিত না হন।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের ভোটে অযোগ্য করার বিধান যুক্ত না করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখাসহ ৯ দাবি একাধিকবার জানিয়েছে বিরোধী দল। গত ১ সেপ্টেম্বর এমন দাবি ইসিতে জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।’
দেশে এ ধরনের ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, প্রার্থীও হতে পেরেছেন। অথচ তাঁদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে।’ তিনি এর তীব্র ও প্রতিবাদ জানান। এর আগে গত ২৯ জুলাইও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকেও এ দাবি জানায় দলটি।
এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ১২ নভেম্বর। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, দেশে ইউনিয়ন রয়েছে চার হাজার ৫৮০টি। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ৩০ ডিসেম্বর,চতুর্থ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ হবে ২৭ মে।