১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে লোডশেডিং, জিএমকে স্ট্যান্ড রিলিজ

প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল কনফারেন্স   © সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বক্তব্য চলাকালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাপ হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার লক্ষ্যে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশের সব জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে সকাল ৯টায় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা মিলনায়তনে সরাসরি সম্প্রচারের আয়োজন করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মাথায় কনফারেন্সস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ সংযোগ আবার ফিরে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও শুধু মিলনায়তনে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এ ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরদিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসানের সই করা অফিস আদেশে জিএম মো. আলতাপ হোসেনকে বরিশাল জোনে সংযুক্ত করা হয়।

অফিস আদেশে তাকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আগেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তবে উপজেলা পরিষদের অন্য জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল। কমিউনিকেশন গ্যাপের কারণে এটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পরবর্তীতে আজ শুনেছি জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাকে বরিশালে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ইউএনওর অফিসে নাকি বিদ্যুৎ ছিল না। ওখানকার সিএ অভিযোগ দিয়েছে যে তাদের অফিসের বিদ্যুৎ নেই। আমাদের লাইনম্যান যারা ছিল তারা গিয়ে দেখেছে যে অফিসের বিদ্যুৎ নেই। আমাদের কর্মচারীদের ধারণা ছিল যে ইউএনও অফিসেই মিটিং হচ্ছে, এজন্য লাইন বন্ধ করেছিল। যখন লাইন বন্ধ করেছে তখন মিটিং স্থানে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখনই ওখানকার বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জকে কল দিয়ে বিষয়টি জানানো হয় এবং এই কথোপকথনের মধ্যে দুই মিনিট (৯টা ৪২ থেকে ৯টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত) বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে- এজন্যই জিএমকে বরিশালে সংযুক্ত করা হয়েছে।’